জে মাহাতো, আমাদের ভারত, মেদিনীপুর, ৮ জুলাই:
মেদিনীপুর শহরের পাশেই ডাইন অপবাদে পাঁচ বছর ঘর ছাড়া রয়েছে এক শিক্ষকের পরিবার। মেদিনীপুর সদর ব্লকের খালডাঙ্গি গ্রামের আদিবাসী পরিবারটির অভিযোগ, পঞ্চায়েত, বিডিও, জেলাশাসক, থানার আইসি ও পুলিশ সুপারকে বার বার আবেদন জানিয়েও কোনও সুরাহা হয়নি। গ্রামে ফেরার জন্য অসহায় অবস্থায় আজও প্রশাসনের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরছি।
জানা গেছে, গ্রামছাড়া পরিবারটি সদর ব্লকেরই শিরোমনি গ্রামে এক আত্মীয়ের বাড়িতে রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ২১ সেপ্টেম্বর অসুখে ভুগতে থাকা গ্রামের এক ব্যক্তির কলকাতার হাসপাতালে মৃত্যু হয়। এর পরেই সমাজের মোড়লরা সালিশি সভা ডেকে শিক্ষক মঙ্গল হাঁসদার বাবা সাবে হাঁসদা ও মা পুটকি হাঁসদাকে ডাইন অপবাদ দিয়ে হাত পা পিছমোড়া করে বেঁধে বেধড়ক মারধর করে বলে অভিযোগ। সালিশি সভায় মাতব্বরেরা দাবি করেন, সাবে হাঁসদা ও পুটকি হাঁসদাকে তাদের জানগুরু ডাইনি সাব্যস্ত করেছে। সালিশী সভায় মারধর থেকে রেহাই পাননি শিক্ষক মঙ্গল হাঁসদা ও তার দাদা অমিত হাঁসদাও। ঐদিন তাদের ৫৫ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়। মোড়লরা শিক্ষক মঙ্গলকে টাকা আনতে ছেড়ে দিলে আদিবাসী সমাজ সংগঠন মাঝি পারগানা মহলের নেতা রবি মুর্মুর সহযোগিতায় তিনি পুলিশে খবর দেন। পুলিশ সভা থেকে তাদের উদ্ধার করে। সেই থেকেই শিরোমনিতে মামার বাড়িতে রয়েছে গ্রাম ছাড়া ওই শিক্ষকের পরিবার।
শিক্ষকের বাবা ও মা জানিয়েছেন, ছেলে শিক্ষকতা করে এবং গ্রামে তদের বেশ কিছু জমি জায়গাও রয়েছে। এসব সহ্য করতে পারছে না গ্রামের লোকজন। তাই ডাইন অপবাদ দিয়ে অত্যাচার করে গ্রামছাড়া করেছে।
স্থানীয় তৃণমূল নেতা চুনারাম হাঁসদা বলেন, কয়েক বছর আগে গ্রামবাসীদের সঙ্গে ডাইনি সংক্রান্ত বিষয়ে ওদের সমস্যা হয়েছিল। তারপর থানায় বসে মিটমাটও হয়। পরে শুনেছি আবার গোলমাল হয়েছে।
জেলা পুলিশের এক আধিকারিক জানান, এরকম ঘটনার কথা জানা নেই। তবে খোঁজ নেওয়া হবে।
মেদিনীপুর সদর ব্লকের বিডিও সুদেষ্ণা দে জানিয়েছেন, মেদিনীপুরে নতুন এসেছি, আজ সকালে বিষয়টি জানতে পারলাম। এমন কিছু ঘটছে থাকলে পুলিশের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

