আমাদের ভারত, ১০ মে: রাজনৈতিক হিংসায় নিজেদের কাছের মানুষকে হারিয়েছেন ওঁরা। রানী রাসমণি রোডে বিজেপি’র মঞ্চে স্বজনহারাদের সেই কাতরতা যন্ত্রনা দেয়। ভোটের পরে রাজনৈতিক হিংসার ঘটনায় ক্রমেই রাজ্য সরকারের অস্বস্তি বাড়ছে। রানী রাসমণি রোডের মঞ্চ থেকে রাজ্যের শাসক দলের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন সুকান্ত মজুমদার শুভেন্দু অধিকারীরা। এরপর সেইসব ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে নিয়ে রাজভবনে যায় বিজেপি। সেখানে স্বজনহারারা রাজ্যপালের পায়ে লুটিয়ে সুবিচারের আর্জি জানান।
বিকেলে ভোট-পরবর্তী হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলেন রাজ্যপাল। রাজভবনের সিঁড়ির মধ্যে বসে পড়েছিলেন স্বজন হারা মানুষরা। তাদের প্রত্যেকের হাতেই ছিল তাদের হারিয়ে যাওয়া কাছের মানুষের ছবি ও প্ল্যাকার্ড। প্রত্যেকের কথা মন দিয়ে শোনেন রাজ্যপাল। সমবেদনা জানান তিনি। এরই মধ্যে এক মহিলা রাজ্যপালের পায়ে লুটিয়ে বিচার চান। প্রত্যেকের আবেদন অত্যন্ত মন দিয়ে শুনেছেন জগদীপ ধনকর। কথা বলেন বঙ্গ বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীদের সাথেও। তারপর রাজ্যপাল বলেন, আমি রাজ্যের ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখেছি। এক বছর পেরিয়ে যাওয়ার পরেও এই দৃশ্য দেখে রাজ্যপাল হিসেবে আমি দুঃখিত ও বিচলিত।

রাজ্যপাল বলেন, “ভোট পরবর্তী হিংসা সমাজের জন্য লজ্জার। ভোট-পরবর্তী হিংসা সমাজের জন্য লজ্জার একবছর পরেও কোনো সুরাহা না হওয়াটা সত্যিই চিন্তার বিষয়। পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার এই অবিচারের ইস্যুতে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। সেখানে ভোট পরবর্তী হিংসার শিকার হওয়া পরিবারগুলোর জন্য আর্থিক প্রতিদানের দাবি করা হয়েছে। আমি সেই স্মারকলিপি খতিয়ে দেখব।”
বিজেপির তরফে জানানো হয়েছে, সাংবিধানিক প্রধান হিসেবে এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার আশ্বাস দিয়েছেন রাজ্যপাল।

