সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ২৭ ফেব্রুয়ারি: দু- একটি বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণ ভাবেই বাঁকুড়ার ৩ টি পৌরসভায় শান্তিপূর্ণ ভাবেই ভোট পর্ব মিটলো। এদিন সকাল থেকেই জেলার তিনটি পুর শহরে ভোটদাতাদের মধ্যে উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়।সকালের দিকে বাঁকুড়া পুরসভায় ২৪টি ওয়ার্ডেই ধীর গতিতে ভোট পড়তে থাকে। গুটি কয়েক বুথ ছাড়া সর্বত্রই ভোটারদের ভিড় নজরে আসেনি।প্রথম দু’ ঘন্টায় ভোট পড়ে ১৪ শতাংশের কিছু বেশি, কিন্তু বেলা বাড়তেউ দুপুর একটায় তা বেড়ে দাঁড়ায় চল্লিশ শতাংশের কাছাকাছি। তবে সোনামুখীতে একটা চাপা উত্তেজনা দেখা যায়।
জানা গেছে, এদিন সকালে এই ওয়ার্ডে নির্দল প্রার্থীর সমর্থকদের সঙ্গে শাসকদলের কর্মীদের মধ্যে বচসা হতে হতে উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিশি হস্তক্ষেপে তখনকার মত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।আজ সকালে নির্দিষ্ট সময়ে বাঁকুড়া পুরসভায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়। এই পুরসভায় ভোটগ্রহণ প্রায় শান্তিতেই হয়। এই পুরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের একটি বুথে ও ১৮ নং ওয়ার্ডের সাহেবডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট গ্রহণ চলাকালীন যন্ত্র বিকল পড়ে। সেক্টর অফিসে খবর পাঠানো হলে সেখান থেকে অফিসার ও কর্মীরা এসে ভোটিং মেশিন ঠিক করে দিলে ফের ভোট নেওয়া শুরু হয়। এজন্য দু’ জায়গাতেই প্রায় দেড় ঘন্টা ভোট গ্রহণ ব্যাহত হয়। এছাড়া আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
পুরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কমরার মাঠ এলাকার বাসিন্দারা জল সরবরাহ এবং আবাস যোজনায় উন্নয়ণ হয়নি দাবি তুলে ভোট বয়কট করবে এরকম একটা রটনা ছিল। সেখানেও ভোট শান্তিপূর্ণ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এদিন ভোট গ্রহণের শুরুতেই লোকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৫৫ নম্বর বুথে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী তথা বাঁকুড়ার বিজেপি সাংসদ ডাঃ সুভাষ সরকার এবং কানকাটা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সস্ত্রীক বাঁকুড়ার বিধায়ক বিজেপির নীলাদ্রি শেখর দানা ভোট দেন। বাঁকুড়ার পাশাপাশি বিষ্ণুপুরে দু’একটি ছোটোখাটো ঘটনা ছাড়া এই পৌরসভার ভোটও নির্বিঘ্নে শেষ হয়েছে।
জানা গেছে, ৬ নং ওয়ার্ডে কিছু বহিরাগত দুষ্কৃতি ঢুকে ২ টি বোম মেরে পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় বিরোধীরা তৃণমূলের দুষ্কৃতিদের দিকে আঙুল তুলেছে। বিরোধীদের সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তৃণমূলের দাবি, বাঁকুড়া জেলার মত নির্বিঘ্নে ভোট রাজ্যের কোথাও হয়নি।

