রাজেন রায়, কলকাতা, ৭ এপ্রিল: আইএসএফ প্রধান আব্বাস সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে বিজেপির দালাল বলে অভিযোগ এনে সংখ্যালঘু ভোট ভাগ না করার জন্য সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানিয়েছিল বিজেপি। মুসলিমদের তাঁর দলকে ভোট দেওয়ার আর্জি জানানোয় তৃণমূল সুপ্রিমোকে নোটিশ ধরাল নির্বাচন কমিশন। আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যেই তাঁকে শো-কজের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
গত সোমবারই বিজেপির পক্ষ থেকে এক প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক তাস খেলার অভিযোগ জানিয়েছিল। গত ৩ এপ্রিল হুগলীর তারকেশ্বরের জনসভায় তৃণমূল সুপ্রিমো তাঁর ভাষণে বলেন, ‘সংখ্যালঘু ভাইবোনেদের কাছে হাতজোড় করে একটা কথা বলব, ওই শয়তান ছেলেটা (আব্বাস সিদ্দিকি) বিজেপির টাকা নিয়ে বেরিয়েছে। ওর কথা শুনে সংখ্যালঘু ভোট ভাগ করবেন না। সাম্প্রদায়িক কথা বলেও। বিজেপির টাকা নিয়েছে যাতে সংখ্যালঘু ভোট ভাগ হয়ে যায়। মনে রাখবেন, বিজেপি আসলে দুর্ভোগ আপনাদের বেশি হবে।’
মমতার ওই ভাষণকে হাতিয়ার করে নির্বাচন কমিশনে নালিশ ঠোকে বিজেপি। কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী মুখতার আব্বাস নাকভির নেতৃত্বে পদ্ম শিবিরের নেতারা গত ৫ এপ্রিল সোমবার নির্বাচন কমিশনে গিয়ে সাম্প্রদায়িক তাস খেলার অভিযোগ এনে মমতার বিরুদ্ধে এফআইআরের দাবি জানান। বিজেপির সেই দাবি মেনে এদিন তৃণমূল সুপ্রিমোকে শোকজ নোটিশ পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পাঠানো ওই নোটিশে কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘৩ এপ্রিলের জনসভায় আপনার ভাষণ খতিয়ে দেখা হয়েছে। জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ১২৩ (৩), ৩ (এ) ও (৪) ধারা এবং আদর্শ নির্বাচনী আচরণবিধি ভেঙেছেন আপনি। এ বিষয়ে আপনাকে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।’

