রাজেন রায়, কলকাতা, ১২ এপ্রিল: চতুর্থ দফার ভোটের শুরুর দিকেই কোচবিহারের শীতলকুচিতে আত্মরক্ষার্থে গুলি চালিয়েছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী। গুলিতে ৪ জনের মৃত্যু শোরগোল ফেলেছে চলতি বিধানসভা নির্বাচনে। এই ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না হয়, তার জন্য আগেভাগেই ব্যবস্থা নিল নির্বাচন কমিশন। সোমবার সকালে এক বিশেষ বৈঠকে পরবর্তী দফাগুলিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে জেলা প্রশাসন ও পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কাজ করার নির্দেশ দিল কমিশন।
সোমবার সকালে বারাসতে বিশেষ পর্যবেক্ষক অজয় বি নায়েক ও পুলিশ পর্যবেক্ষক বিবেক দুবে জেলাশাসকের দফতরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে আলাদা করে বৈঠক করেন। বৈঠকে ছিলেন তিন পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার-সহ বিধাননগর এবং ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনার। উপস্থিত ছিলেন বিএসএফ, সিআইএসএফ, এসএসবি সহ বিভিন্ন কেন্দ্রীয় বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্তারাও।
বৈঠকে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে বেশ কয়েকটি নির্দেশ পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেন নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা। জানানো হয়, কঠিন পরিস্থিতিতেও মাথা ঠান্ডা রেখে কাজ করতে হবে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে। সতর্ক থাকতে হবে শূন্যে গুলি চালনার ক্ষেত্রেও।আত্মরক্ষার্থে অবশ্যই গুলি চালাতে পারে কেন্দ্রীয় বাহিনী। কিন্তু সব দিক বিচার বিবেচনা করে সামাল দিতে হবে বলে নির্দেশ কমিশনের। সর্বোপরি জেলা প্রশাসনের সাথে সর্বত্র যোগাযোগ রাখতে হবে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে। তবে বিশেষ প্রয়োজনে যে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারে কেন্দ্রীয় বাহিনী।
এছাড়া পঞ্চম দফায় কোথায় কত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকবে, তাও এদিন স্পষ্ট করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। জানা গিয়েছে, পঞ্চম দফায় ১০৭১ কেন্দ্রীয় কোম্পানি থাকবে। যার মধ্যে ৮৫৩ কেন্দ্রীয় বাহিনী ভোটের কাজে ব্যবহৃত হবে। বারাসতে ৬৯ কোম্পানি, ব্যারাকপুরে ৬১ কোম্পানি, বসিরহাটে ১০৭ কোম্পানি, বিধাননগরে ৪৬ কোম্পানি, দার্জিলিংয়ে ৬৮ কোম্পানি, জলপাইগুড়িতে ১২২ কোম্পানি, কালিম্পংয়ে ২১ কোম্পানি, কৃষ্ণনগরে ১১ কোম্পানি, পূর্ব বর্ধমানে ১৫৫ কোম্পানি, রানাঘাট ১৪০ কোম্পানি, শিলিগুড়িতে ৫৩ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে। চতুর্থ দফায় ১৫৭৮৯ টি বুথ থাকছে, যার মধ্যে সেক্টর অফিসার থাকবেন ৬৯০ জন।

