‘করোনা যোদ্ধা’র মর্যাদা ভোটকর্মীদেরও, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অবিলম্বে টিকা দেওয়ার নির্দেশ কমিশনের

রাজেন রায়, কলকাতা, ১৭ ফেব্রুয়ারি: আর মাসকয়েক বাদেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। কেন্দ্রীয় সরকার ধাপে ধাপে স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ কর্মী এবং প্রবীণ ব্যক্তিদের টিকাকরণ শুরু করলেও বিধানসভা ভোট পর্যন্ত সকলের টিকাকরণ হয়ে উঠবে কি না, এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। কিন্তু ভোটের সময়ে তাদের স্বাস্থ্যের নিরাপত্তা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করতে রাজ্যকে নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন। রাজ্যকে চিঠি পাঠিয়ে এবার ভোট কর্মীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকাকরণ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পোলিং অফিসারদের নাম পেলেই টিকাকরণের ব্যবস্থা করা হবে, জানালেন রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তা অজয় চক্রবর্তী।

তবে রাজ্যের ভোট কর্মীর সংখ্যাটা নেহাত কম নয়। তবে এবার ‘করোনা যোদ্ধা’র মর্যাদা পাবেন ভোটকর্মীরাও। প্রতিবার পশ্চিমবঙ্গে ৪ থেকে সাড়ে ৪ লক্ষ সরকারি কর্মীকে ভোটের কাজে নিয়োগ করা হয়। সেই কারণে তালিকা প্রস্তুত করার পর দ্রুত হারে টিকাকরণ করতে হবে এই সমস্ত ভোট কর্মীদের।

পশ্চিমবঙ্গ-সহ তিনটি রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে যে কোনও সময়ে নির্বাচনের নির্ঘন্ট ঘোষণা করা হতে পারে নির্বাচন কমিশন। জানা গিয়েছে, এ রাজ্যে পুলিশ ও প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের সঙ্গে ইতিমধ্যেই বৈঠক সেরে ফেলেছেন মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক আরিজ আফতাব। বাদ যায়নি কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিও। কমিশন সূত্রে খবর, কোভিডের কারণে এবার রাজ্যে বুথের সংখ্যা ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত নির্বাচনের সময় একতলায় ছিল, এমন ২৯৫০টি বুথকে নিচের তলায় নামিয়ে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে আবার দেশজুড়ে করোনা টিকাকরণ কর্মসূচিও চলছে জোরকদমে। কোভিশিল্ড আর কো-ভ্যাকসিন দুটি ভ্যাকসিনকেই ছাড়পত্র দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীরা ভ্যাকসিন নিয়েছেন। তাহলে ভোটকর্মীরাই বা বাদ যাবেন কেন? তাঁদের অবিলম্বে টিকা দেওয়ার জন্য রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরকে নির্দেশ নিল নির্বাচন কমিশন। স্বাস্থ্য অধিকর্তা অজয় চক্রবর্তী জানিয়েছেন, আয়কর দপ্তরের যেসব কর্মী পোলিং অফিসার হিসেবে কাজ করেন, তাদের টিকা দেওয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। কমিশনের তরফে যদি বাকি পোলিং অফিসারদের নাম দেওয়া হয়, তাহলে তাদের নাম পোর্টালে নথিভুক্ত করে টিকা দেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *