বিশ্বভারতীর উপাচার্যের বাড়ির সামনে থেকে ফিরতে হল চিকিৎসকদের

আশিস মণ্ডল, বীরভূম, ২ সেপ্টেম্বর: উপাচার্যের চিকিৎসা নিয়ে উত্তেজনা ছড়াল শান্তিনিকেতনে। ছাত্রদের দাবি না মানায় অসুস্থ উপাচার্যের চিকিৎসা না করেই ফিরতে হয় চিকিৎসক ও নার্সদের। এই ঘটনায় বিশ্বভারতী চত্বরে উত্তেজনার পারদ চড়ছে। গত শুক্রবার সন্ধে থেকে আন্দোলন করছেন বিশ্বভারতীর ছাত্ররা। উপাচার্যের বাড়ির সামনেই ধর্না মঞ্চ করে আন্দোলন চালাচ্ছে তারা। বৃহস্পতিবার হঠাৎই বিশ্বভারতীর পিয়ারসন মেমোরিয়াল হাসপাতাল থেকে ডাক্তার এবং নার্স নিয়ে একটি অ্যাম্বুলেন্স উপাচার্যের বাড়ির সামনে এসে দাঁড়ায়।
সঙ্গে সঙ্গে কৌতুহলী হয়ে ছাত্রছাত্রীরা সেখানে তাদের ঘিরে ধরে। জানা যায় উপাচার্য অসুস্থ বোধ করায় পিয়ারসন মেমোরিয়াল হাসপাতালে ফোন করা হয়েছিল। তার জন্যই ডাক্তার নার্স এবং অ্যাম্বুলেন্স এসে হাজির হয়। সেই সময় বিক্ষোভরত ছাত্রছাত্রীরা দাবি করেন ডাক্তার এবং নার্সদের সঙ্গে দুই ছাত্র প্রতিনিধিও সঙ্গে যাবেন। 

বিক্ষোভরত ছাত্রদের দাবি, আন্দোলনের প্রথম দিন থেকেই উপাচার্য একের পর এক মিথ্যা কথা বলে অভিযোগের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে ছাত্রদের। কখনো তিনি খেতে পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ তুলেছেন, কখনো বিশ্বভারতীর বিভিন্ন গেটে তালা মেরে সেগুলো ছাত্ররা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন, যা সবই মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। তাই তিনি আদৌ অসুস্থ কি না তা খতিয়ে দেখবে আর তার জন্যই দুই ছাত্র প্রতিনিধি ডাক্তার এবং নার্সদের সঙ্গে ভিতরে যাবার আবেদন জানায়। সেই নিয়ে নিরাপত্তাকর্মী ও চিকিৎসকদের সঙ্গে দৃশ্যতই বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভরত ছাত্রছাত্রীরা।

এক সময় বাধ্য হয়ে ফিরে যেতে হয় বিশ্বভারতীর পিয়ারসন হাসপাতালে দুই চিকিৎসক ডাক্তার অনির্বাণ দাশগুপ্ত ও ডাক্তার অরিন্দম চট্টোপাধ্যায় সহ নার্সদের।
ডাক্তারবাবুরা অভিযোগ করেন, ছাত্রছাত্রীদের জন্যই তারা ভেতরে ঢুকতে পারেননি। যদিও সেই অভিযোগ সঙ্গে সঙ্গে খন্ডন করেছেন ছাত্রছাত্রীরা। তাদের দাবি তারা কোথাও চিকিৎসক বা নার্সদের ভিতরে ঢুকতে বাধা দেয়নি, শুধু তাদের সঙ্গে নিজেদের প্রতিনিধি পাঠাবার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।

বিক্ষোভরত বহিস্কৃত ছাত্র সোমনাথ সৌ জানায়,”আমরা কোথাও উপাচার্যের চিকিৎসায় বাধা দিইনি। উপাচার্য আদৌ অসুস্থ কি না সে নিয়ে এবার প্রশ্ন উঠছে। কারণ উপাচার্য সত্যি করে অসুস্থ হলে চিকিৎসকরা কখনো ফিরে যেতেন না। উপাচার্য সত্যিই অসুস্থ হলে আমরা বোলপুর থেকে প্রখ্যাত চিকিৎসকদের ডেকে নিয়ে এসে চিকিৎসার ব্যবস্থা করব।” বৃহস্পতিবার সন্ধের এই ঘটনা নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *