কুমারেশ রায়, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৭ সেপ্টেম্বর:
ঘাটাল পুরসভার উন্নয়ন উল্লেখযোগ্য ভাবে হয়নি।
দেড়শ বছরের পুরনো পুরসভার থেজে বয়সে নবীন ঝাড়গ্রাম পৌরসভার উন্নয়ন অনেক বেশি হয়েছে। ঘাটাল পুরসভার নবনিযুক্ত সহ প্রশাসক অজিত দে মেনে নিলেন এই কথা। তাঁর এই মন্তব্যে প্রশ্ন উঠেছে, ঘাটাল পুরসভার ব্যাপক উন্নয়ন এর পক্ষে শাসক দলের প্রচার কি কেবলমাত্র প্রচারের ফানুস ছিল?
উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে পর্যন্ত, তৃণমূলের জন্মলগ্ন থেকে থাকা প্রবীণ নেতা অজিত দে দলে কোণঠাসা ছিলেন। সাংগঠনিক কাঠামোর রদবদলের পরে রাজনৈতিক ময়দানে তাঁকে আবার সক্রিয় হতে দেখা যাচ্ছে। ঘাটাল পুরসভার সহ প্রশাসক নিযুক্ত হওয়ার পর তিনি কী কাজ করবেন জানতে চাওয়া হয়েছিল। অজিতবাবু ঘাটালের স্বাধীনতা আন্দোলনের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, তিনি ঘাটাল পুরসভার প্রকৃত উন্নয়ন চান। তিনি ঘাটালের প্রাক্তন চেয়ারম্যান স্বদেশ চৌধুরী, অজিত সাঁতরা, জগন্নাথ গোস্বামীর নাম উল্লেখ করে বলেন, ঘাটাল পুরসভার উন্নয়ন আশানুরূপ হয়নি। শিক্ষা সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ঘাটাল এখনো পিছিয়ে বলে তাঁর মত।
শিলাবতী নদীর পূর্বপাড়ে নিকাশি ব্যবস্থা না থাকার বিষয়ে তিনি প্রথমে তাদের ব্যর্থতা বলে স্বীকার করলেও, প্রাক্তন চেয়ারম্যান জগন্নাথ গোস্বামীর ওপর দোষ চাপিয়ে বলেন, এই বিষয়ে জগন্নাথবাবু কাজ করেননি। আবার পৌরসভার বর্তমান প্রশাসক নিকাশি ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর চেষ্টা করলেও টাকা অনুমোদন হয়নি বলে অজিতবাবু বলেন।
পুরসভা এলাকায় রাস্তার ধারে স্টোন চিপস এবং বালি জমিয়ে রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, এই বিষয়ে এসডিও এবং ওসি দেখছেন। কিছু ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থে এই কাজ করেছেন বলে তিনি বলেন। রাস্তার ধারে বালি এবং স্টোন চিপস জমিয়ে রাখার ফলে দুর্ঘটনার প্রবণতা বাড়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পাঁশকুড়া বাস স্ট্যান্ড থেকে রানিচক পর্যন্ত রাস্তার ধারে কিছুটা অংশ পড়ছে ঘাটাল পৌরসভা আর বাকিটা পঞ্চায়েত এলাকায়।
যারা ওইভাবে বালি এবং স্টোন চিপস রাখেন আমরা তাদের নিষেধ করেছি। কিছু ক্ষেত্রে বালি তুলে ফেলে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীকালে এই বিষয়ে প্রশাসনের সাথে যৌথ মিটিং হবে বলে তিনি জানান।

