রাজেন রায়, কলকাতা, ২০ সেপ্টেম্বর: রাতভর ভারী বৃষ্টিতে কত মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত? কি পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের?সোমবার বিকেলে নবান্নের বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ করল।
সেই রিপোর্টে উল্লেখ পেয়েছে, নিম্নচাপের কারণে জেলায় জেলায় অতিবৃষ্টির ফলে বেশ কয়েকটি জেলা জলমগ্ন হয়ে রয়েছে। জলের জেরে বিপাকে পড়া মানুষদের জন্য মোট ৫৭৭টি ত্রাণ শিবির চলছে। সেই ত্রাণ শিবিরগুলিতে আশ্রয় নিয়েছেন প্রায় ৮০ হাজারের বেশি মানুষ।বিপজ্জনক এলাকা থেকে স্থানান্তরিত করা হয়েছে ১ লক্ষ ৪১ হাজার মানুষকে। ইতিমধ্যেই নবান্নের পক্ষ থেকে জেলাশাসকদের অতিরিক্ত তহবিল মঞ্জুর করা হয়েছে বিপর্যয়ের পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য।
নবান্নের পক্ষ থেকে ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুমও খোলা হয়েছে। এই কন্ট্রোল রুমের টোল ফ্রি নম্বর ১০৭০, ২২১৪৩৫২৬। দুর্গতদের জন্য ইতিমধ্যেই সরকারের তরফ থেকে বিলি করা হয়েছে ৬০ হাজার ত্রিপল। জেলায় জেলায় অতিবর্ষণের জেরে গত ১৪ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মোট ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবারের পর যে সংখ্যাটা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা। এই ১৪ জনের মধ্যে ৮ ব্যক্তির মৃত্যু ঘটেছে জলে ডুবে, বাকি ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে দেওয়াল ভেঙ্গে এবং তড়িতাহত হয়ে। জলে ডুবে মৃতদের মধ্যে ৭ জন পশ্চিম মেদিনীপুর এবং একজন পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা বলে খবর। এ ছাড়াও পূর্ব মেদিনীপুরের অরবিন্দ জানা নামে এক ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছেন। শেষ পাওয়া খবর পর্যন্ত রাজ্যের ৪৭ টি ব্লক এবং ৮ টি পুরসভা পুরোপুরি জলের তলায়। জলবন্দি হয়ে রয়েছেন ১৩ লক্ষ ১৪ হাজার ৩২৮ জন মানুষ। ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির সংখ্যা প্রায় ১ লক্ষ পেরিয়েছে।

