রাজেন রায়, কলকাতা, ৭ এপ্রিল: রাজ্যে ফের বাড়তে শুরু করেছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। এই অবস্থায় দু’টি ডোজ নেওয়ার পরেও ফের করোনা পজিটিভ হচ্ছেন অনেকেই। তাহলে কি ঠিকঠাক কাজ করছে না ভ্যাকসিন? বিষয়টি আপাতত ভাবাতে শুরু করেছে স্বাস্থ্যকর্তাদের। সেই কারণে এমন ভ্যাকসিন গ্রহীতাদের যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করে তথ্যভাণ্ডার তৈরি করার জন্য জোর দিল স্বাস্থ্য দফতর। জানা হবে টিকা প্রাপকদের লালারসে প্রাপ্ত করোনার মিউটেশন ঘটেছে কি না, আপাতত সেটাই খতিয়ে দেখবে স্বাস্থ্য দফতর।
প্রথম ডোজ নেওয়ার পর যদিও বা মাস্ক বা বারবার হাত ধোয়া অভ্যাস থাকছে। কিন্তু দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার পর থেকেই সব অভ্যাস উধাও। আর এখানেই চিন্তার জায়গা থেকে যাচ্ছে বলে মনে করছে স্বাস্থ্য দপ্তর। স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রাথমিক তথ্য বলছে, রাজ্যে অন্তত ১২ জন দু’টি ডোজ নেওয়ার পরেও কোভিড পজিটিভ হয়েছেন।
জ্বর-সর্দির সংক্রমণ থাকায় করোনার আরটিপিসিআর পরীক্ষার পর পজিটিভ রিপোর্ট আসছে। যদিও সংক্রমণ অতটা তীব্র নয়। সেই কারণে ‘তথ্যভাণ্ডার’ তৈরি করছে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর। রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তা ডা: অজয় চক্রবর্তীর কথায়, “দু’টি ডোজ নেওয়ার অন্তত ৩-৪ সপ্তাহ পরেই শরীরে প্রোটেক্টিভ ইমিউনিটি তৈরি হয়। করোনার অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। যদিও অন্য রাজ্যের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে এমন নজির খুব কম। কিন্তু এই সামান্য বিষয়কেও গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করা হবে।” স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে খবর, দু’টি ডোজ নেওয়ার তিন সপ্তাহ পরেও যাঁরা পজিটিভ হয়েছেন, তাঁদের আরটিপিসিআর পরীক্ষার পর জিনোম সিকোয়েন্স স্টাডি করা হবে। সেই তথ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রোটোকল বিশেষজ্ঞরা পরীক্ষা করবেন।”
স্বাস্থ্য অধিকর্তার কথায়, “কোনও ভ্যাকসিনই একশোভাগ কার্যকর নয়। তাই ৭০-৭৫ জনের মধ্যে দু’টি ডোজ নেওয়ার পরেও পজিটিভ দেখা যায়। এখন থেকে জিনোম সিকোয়েন্স পরীক্ষা করে জানা হবে ভাইরাসের চরিত্রের বদল বা মিউটেশন হয়েছে কি না।” আর ঠিক এই কারণেই টিকাকরণের পর গ্রাহক পজিটিভ হলেই তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

