আমাদের ভারত, ১৭ এপ্রিল:
করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়েছে গোটা দেশে। প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে সক্রিয় রোগীর সংখ্যা। হাসপাতালে বেডের আকাল। ক্রমশই সংকটজনক পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে চিকিৎসা পরিষেবা। এই পরিস্থিতিতে গোটা বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করেছে ল্যানসেট পত্রিকা। সেখানে একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে করোনায় দৈনিক মৃত্যু বেড়ে ২ হাজার ৩২০ পর্যন্ত হতে পারে, যা কিনা এখনকার দ্বিগুণ।
করোনার প্রথম পর্বে গত বছর ১৬ সেপ্টেম্বর দেশে একদিনে সর্বাধিক মৃত্যু হয়েছিল ১২৯০ জনের। কিন্তু এরপর ধীরে ধীরে মৃত্যুর হার কমতে থাকে। কিন্তু এখন যা পরিস্থিতি সেই রেকর্ড ভাঙতে চলেছে বলে আশঙ্কা। গত ২৪ ঘণ্টায় ১১৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আগামী জুন মাসেই মৃতের সংখ্যা আরও হাজার খানেক বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এক কথায় বলা যেতে পারে বিভীষিকাময় পরিস্থিতির আসতে চলেছে।
বিশেষজ্ঞরা যে তথ্য তুলে ধরছেন তাতে মড়ক হতে চলেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে চিকিৎসা পরিকাঠামো উন্নত করাই একমাত্র পথ। মৃতের সংখ্যা কমানোর ক্ষেত্রে এটিই একমাত্র সম্ভাব্য পথ। এই কাজ অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে করলে তবেই সুরাহার পথ পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। মাত্র ৪০ দিনে সংক্রমণের সংখ্যা ১০ হাজার থেকে ৮০ হাজার হয়েছে। অথচ এই বৃদ্ধির গত বছর এইসময় ছিল ৮৩ দিনের মাথায়।
করোনার এই দ্বিতীয় ঢেউ-এর বৈশিষ্ট্য প্রথম ঢেউয়ের থেকে অনেকাংশে আলাদা। দ্বিতীয় ঢেউয়ে সংক্রমণের হার অনেকটাই বেশি। উপসর্গহীন এবং মৃদু উপসর্গের রোগীর সংখ্যাও বেশি। দ্বিতীয় ঢেউয়ে দৈনিক মৃত্যু পর পর ৩ দিন হাজার ছাড়িয়েছে।
ল্যানসেটের ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে পরিস্থিতিতে মোকাবিলায়, তরুণ প্রজন্মকে প্রথমে টিকাকরণের আওতায় আনতে হবে। শুধু ৪৫ বছরের ঊর্ধ্বে নয়, কম বয়সীদেরও টিকা দিতে হবে। এই সময়ের মধ্যে করোনাভাইরাস নিজেকে কতটা পরিবর্তন করেছে তা জানতে জেনোম সিকোয়েন্সিং উপর জোর দিতে হবে।সংক্রমন আটকাতে লকডাউন সমাধান নয়, বরং সর্তকতা অবলম্বন করার কথাই পত্রিকাতে বারবার উল্লেখ করা হয়েছে।

