প্রসবের সময় স্ত্রী এবং সন্তানের মৃত্যু, মানসিক অবসাদে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা যুবকের

স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ২০ জানুয়ারি: প্রসব করতে গিয়ে স্ত্রী এবং সন্তান উভয়ের মৃত্যু, দীর্ঘদিন মানসিক অবসাদে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা যুবকের। ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার নবদ্বীপ থানার স্বরূপগঞ্জ পঞ্চায়েতের লেলিন কলোনি এলাকায়। মৃত যুবকের নাম সম্রাট দাস, বয়স ৩১ বছর।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মুম্বাইতে একটি বেসরকারি রেস্তোরাঁয় মোটা অঙ্কের বেতনের বিনিময়ে কম্পিউটারের কাজ করতো সম্রাট। গত মাস দেড়েক আগে সম্রাটের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী সোনালী দাসের শারীরিক অসুস্থতা জনিত কারণে মুম্বাই থেকে স্বরূপগঞ্জ লেলিন কলোনিতে নিজের বাড়িতে ফিরে আসে ওই যুবক। এরপর সম্রাটের স্ত্রীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রথমে কৃষ্ণনগরের শক্তিনগর জেলা হাসপাতাল ও পরে কলকাতার পিজি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। এবং সেখানেই চিকিৎসারত অবস্থায় মৃত পুত্রসন্তানের জন্ম দেওয়ার পাশাপাশি মৃত্যু হয় সোনালী দেবীর।

জানা যায়, এরপর মুম্বাইতে কাজে আর ফিরে না গিয়ে তীব্র মানসিক অবসাদে নিজের বাড়িতেই দিনযাপন করছিল সম্রাট দাস। স্বাভাবিক আর পাঁচটা দিনের মতো গতকাল রাতেও খাওয়া-দাওয়া সেরে ঘরে শুতে চলে যায় সে। বৃহস্পতিবার সকালে দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকির পরেও দরজা না খুললে স্থানীয় পাড়াপড়শিদের সাহায্যে দরজা ভেঙ্গে ঘরে ঢুকে সম্রাটকে সিলিং ফ্যানের হুকের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তাঁর বাবা শম্ভু দাস। এরপর স্থানীয়দের সহযোগিতায় সম্রাট দাসের নিথর দেহটি উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তী মহেশগঞ্জ গ্রামীন হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্মরত চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে মৃতদেহটি উদ্ধার করে নবদ্বীপ থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুরে দেহটি ময়নাতদন্তে পাঠানোর পাশাপাশি সম্পূর্ণ ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *