সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ১৮ জুলাই: রাস্তায় বিদ্যুতের ঝুলন্ত তার গলায় লেগে মৃত্যু হল এক যুবকের। বিদ্যুতের তারটি ছিঁড়ে রাস্তার উপর ঝুলছিল। রাতের অন্ধকারে বাইক নিয়ে যাবার সময় সেই তার গলায় জড়িয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ঠ হয় ওই যুবক। ঘটনাস্থলেই সে প্ৰাণ হারায়। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ বড়জোড়া থানার দামোদর নদের মানাচর রামকৃষ্ণ পল্লীতে। এই ঘটনায় বিদ্যুৎ দপ্তরের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগে তুলে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্ৰকাশ করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম পিযূষকান্তি সাহা (৩৬)। তাঁর বাড়ির লাগোয়া একটি জায়গায় গ্রিল, শাটার, আলমারি, খাট ইত্যাদি তৈরির ওয়ার্কশপ খুলেছিলেন। সঙ্গে চাউমিন তৈরির কারখানাও চালু করেছিলেন। ছোটোখাটো এই উদ্যোগপতির কাছে ১০-১২ জন কর্মী কাজ করতেন। শনিবার রাতে হিসাব নিকাশ করে কর্মীদের মাইনে মিটিয়ে ওদের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিতে একটি গাড়ি ডাকতে বেড়িয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ঠ হন। ফিরতে দেরি হচ্ছে দেখে সকলেই চিন্তিত হয়ে পড়েন। ফোনও বন্ধ হয়ে যায় তার। রাত আড়াইটা নাগাদ গ্রামেরই এক ব্যক্তি গাড়ি নিয়ে ফেরার পথে দেখেন এক যুবক বাইক নিয়ে পড়ে আছে। ঝুলন্ত বিদ্যুতের তার দেখে বিদ্যুতস্পৃষ্ট হয়েছে বুঝতে পেরে তিনি গাড়ি দাঁড় করিয়ে বাসিন্দাদের ফোন করে করে ডাকেন। খবর দেওয়া হয় বড়জোড়া থানায়। পুলিশ এসে পিযূষকান্তি সাহাকে বড়জোড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় বিদ্যুৎ দফতরের কর্তাদের উপর রাগে ফুঁসছে গোটা গ্ৰাম। রবিবার সকালে সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্তারা কর্মীদের নিয়ে আসেন লাইন মেরামতির জন্য। সেই সময় তাদের ঘিরে রেখে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, বিদ্যুৎ দফতরের গাফিলতির কারণেই পিযূষের মত একজন উদ্যোগপতির মৃত্যু হল। বহু পুরনো এই লাইনের দেখভাল হয় না
ঠিকমত। ঠিকাদার সংস্থার অপ্রশিক্ষিত লোক দিয়ে কাজ করানো হয়।
এবিষয়ে সিপিএম নেতা সুজয় চৌধুরীর অভিযোগ, তার কিভাবে ছিঁড়ে পড়লো তার কৈফিয়ত দিতে হবে বিদ্যুৎ দফতরকে। ওই পরিবারে তিনিই একমাত্র রোজগেরে ব্যক্তি ছিলেন। উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পাশাপাশি মৃতের স্ত্রীকে বিদ্যুৎ দফতরে একটি চাকরি দিতে হবে। কারণ মৃতের স্ত্রী ছাড়াও বৃদ্ধ বাবা মা ও একটি তার নাবালক সন্তান রয়েছে। সরকার নানা ঘটনায় চাকরি ও ক্ষতিপূরণ যেভাবে দেয় এক্ষেত্রেও সেভাবেই ব্যবস্থা করতে হবে।
রবিবার সকালে হাসপাতালে আসেন বড়জোড়ার বিধায়ক অলক মুখার্জি। তিনি বলেন, পিযূষের মত একজন সম্ভাবনাময় যুবকের মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। ক্ষতিপূরণের ব্যাপারে স্টেশন সুপারের সঙ্গে কথা বলেছি এছাড়াও সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরেও তিনি কথা বলবেন বলে অলকবাবু আশ্বাস দেন।

