পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ১২ ডিসেম্বর: বিজেপির অনাস্থা আটকাতে মৃত ব্যক্তিকে জীবিত করার অভিযোগ প্রশাসনের বিরুদ্ধে। চেয়ার দিয়ে মারধর বিডিওকে। সোমবার বিকেলে এই ঘটনাকে ঘিরে তুমুল উত্তেজনা ছড়ায় বালুরঘাট শহর লাগোয়া ডাঙ্গা এলাকায়। বিডিওর অভিযোগ, তার ঘরে ঢুকে চেয়ার দিয়ে মারধর করেছে এক বিজেপি কর্মী।
এদিকে আদিবাসী পঞ্চায়েত সদস্যাকে জাত তুলে গালিগালাজ করবার অভিযোগে বালুরঘাট থানার আইসি সহ মোট তিনজনের বিরুদ্ধে কুরিয়ারে অভিযোগ জানিয়েছে বিজেপি নেতৃত্বরা। এদিন সকাল থেকে চলা এই ঘটনাকে ঘিরে রীতিমতো ধুন্ধুমার পরিস্থিতি বালুরঘাট ব্লক অফিস চত্বরে ও ডাঙা পঞ্চায়েত চত্বরে।

জানাগেছে, ২০ সদস্য বিশিষ্ট বালুরঘাট ব্লকের ডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতটি। ২০১৮- এর পঞ্চায়েত নির্বাচনে যার মধ্যে ১১ টি আসন দখল করে বিজেপি পঞ্চায়েত দখল করলেও পরবর্তীতে তা ধরে রাখতে সক্ষম হয়নি। মাত্র কয়েক মাস আগে বিজেপির প্রধান তৃণমূলে যোগ দেওয়ায় ১১ থেকে বিজেপির সদস্য সংখ্যা দাঁড়ায় ১০ জন, বোর্ড গড়ে তৃণমূল। তবে ইতিমধ্যে তৃণমূলের ৬ সদস্যের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং বামেদের ৩ সদস্য রয়েছে। প্রধানের কারসাজিতে ওই পঞ্চায়েতে ব্যাপক অনিয়ম চলছে এমন অভিযোগ তোলে বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্যরা। এরই মধ্যে এক তৃণমূল সদস্যর মৃত্যু হওয়াতে বিডিও অফিসে মৃত সদস্যের যাবতীয় তথ্য দাখিল করে অনাস্থার ডাক দেয় বিজেপি। এদিন ছিল পঞ্চায়েতের সেই অনাস্থা প্রক্রিয়া। বিজেপির অভিযোগ তৃণমূলের ওই মৃত সদস্যকে জীবিত বানিয়ে অনাস্থা প্রক্রিয়া মুলতবি করে প্রশাসন। শুধু তাই নয়, পঞ্চায়েত অফিসের ভেতরে থাকা মহিলা সদস্যদের জাত তুলে গালিগালাজ করে তাদের ধাক্কা দিয়ে বাইরে বের করে দেন আইসির নেতৃত্বে পুলিশ কর্মীরা বলে অভিযোগ বিজেপির। যে ঘটনাকে ঘিরে তুমুল উত্তেজনা ছড়ায় পঞ্চায়েত চত্বরে।
এরই মধ্যে চেম্বারে ঢুকে পড়ে বিডিওকে বেধড়ক মারধর করেন এক বিজেপি কর্মী। সিসিটিভির ফুটেজ অনুযায়ী চেয়ার দিয়েই বিডিও অনুজ সিকদারকে পিটিয়েছে ওই বিজেপি কর্মী। বিডিওর দাবি সুভাষ সরকার নামে এক বিজেপি কর্মীই তাকে পিটিয়েছে।
সবিতা মন্ডল ও সুভাষ সরকার নামে দুই পঞ্চায়েত সদস্য বলেন, মৃত তৃণমূল সদস্যকে জীবিত বানিয়ে অনাস্থা রুখেছে প্রশাসন। বিডিওর নির্দেশেই এই কারুকার্য হয়েছে। শুধু তাই নয়, পুলিশ দিয়ে ঘর থেকে তাদের বের করে দেওয়া হয়েছে ও জাত তুলে গালিগালাজ করা হয়েছে।
বালুরঘাটের বিডিও অনুজ সিকদার বলেন, সুভাষ সরকার নামে এক বিজেপির কর্মী চেয়ার দিয়ে তাকে মারধর করেছে। হাত দিয়ে আটকানোর চেষ্টা না করলে তার মাথা ফেটে যেত। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হচ্ছেন তিনি।
জেলা বিজেপির সভাপতি স্বরূপ চৌধুরী বলেন, প্রশাসন আইন ভেঙে এই অনাস্থা প্রক্রিয়া রুখেছে। তাদের আদিবাসী সদস্যাদের জাত তুলে গালিগালাজ করেছে পুলিশ। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছেন। তবে বিডিওকে মারধরের বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষ ব্যাপার। তাই এব্যাপারে তিনি কিছু বলতে পারবেন না।

