আমাদের ভারত, আলিপুরদুয়ার, ৯ ডিসেম্বর: বক্সা পাহাড়ের কোলে দুর্গম পাহাড়ি পথে প্রসূতি মায়েদের জন্য চালু হলো দেশের প্রথম পালকি অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা। বুধবার সন্ধ্যায় এই পালকি অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবার উদ্বোধন করেন আলিপুরদুয়ারের জেলাশাসক সুরেন্দ্র কুমার মিনা। উপস্থিত ছিলেন কালচিনি ব্লকের বিডিও প্রশান্ত বর্মন, সিএমওইচ আলিপুরদুয়ার গিরিশচন্দ্র বেরা,পালকি এম্বুলেন্স এর দায়িত্বে থাকা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ফ্যামিলি প্ল্যানিং অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়ার জেনারেল ম্যানেজার এবং অন্যান্য সদস্যরা।
বিগত দিনগুলিতে পাহাড়ের সন্তানসম্ভবা প্রসূতি মায়েদের নিয়ে আসা হতো বাঁশের মাচায় চাপিয়ে। এতে অনেকসময়ই মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়তেন প্রসূতি মায়েরা। অন্যান্য রোগীদের নিয়ে আসার ক্ষেত্রেও মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছিল। দুর্গম এই বক্সে পাহাড়ের কোলে লেপচা, ডুকপা, লিম্বু, মঙ্গর আদিবাসী জনজাতির বসবাস। পাহাড়ের কোলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা গ্রামগুলির মধ্যে লেপচাখা, তাসিগাও, লালবাংলো, চুনাভাটি, বক্সাফোর্ট, সদর বাজারের মত মোট ১৩টি গ্রামের তিন হাজারের মত মানুষ বসবাস করে। বক্সা পাহাড়ের পাদদেশ সন্তলাবাড়ি থেকে দুর্গম চড়াই উৎরাই পেরিয়ে এ সমস্ত গ্রামগুলিতে পৌঁছতে হয়। তবে দেশের প্রথমেই পালকি অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা চালু হওয়ায় আপাতত খুশি পাহাড়ের মানুষেরা।

পালকি অ্যাম্বুলেন্স এর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ফ্যামিলি প্ল্যানিংয়ের অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়ার সদস্যদের। এই পালকি এম্বুলেন্সে রয়েছে সব ধরনের পরিষেবা। আছে অক্সিজেন পরিষেবা, গরম জলের ব্যবস্থা, প্রাথমিক চিকিৎসা সরঞ্জাম। পালকির সঙ্গেই থাকবে স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রশিক্ষিত দুই মহিলা কর্মী। স্বাভাবিকভাবে পালকি এম্বুলেন্স চালু হওয়াতে অনেকটাই খুশি গ্রামের মানুষ। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং জেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান তারা। চারজন ডুকপা যুবকের কাঁধে চেপে এদিন ঐতিহাসিক বক্সা অফিসের উদ্দেশ্যে রওনা হয় দেশের প্রথম পালকি অ্যাম্বুলেন্স।

