সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগনা, ২৪ এপ্রিল: করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে এক প্রাক্তন পুলিশ কর্মীর। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে বাড়িতে পড়ে রইল দেহ। সৎকার করবে কে? তাই নিয়ে চলেছে দীর্ঘ টালবাহানা। তার জেরেই কেটে গেল ১২ ঘণ্টা। এবার সংক্রমণ ছড়ানোর ভয়ে আতঙ্কে কাঁটা গাইঘাটার বাসিন্দারা। অন্য দিকে দুলালবাবুর স্ত্রীও করোনায় আক্রন্ত। তাকে নিয়ে যাওয়া হয় অশোকনগর করোনা হাসপাতালে। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটা থানার চাঁদপাড়া ঢাকুরিয়া এলাকায়। সেখানেই থাকতেন দুলাল চন্দ্র মজুমদার। বেশ কয়েকদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন তিনি। শুক্রবার দুপুরে পজেটিভ রিপোর্ট হাতে পান পরিবার। এরপর থেকেই ৭৯ বছরের দুলালবাবুর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। পরিবারের দাবি, বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করবার চেষ্টা করলেও কোনও জায়গাতেই বেড মেলেনি। এমনকি অক্সিজেন বা অ্যাম্বুলেন্স যোগার করতে পারেনি পরিবারের লোকজন। পরিবারের দাবি, শনিবার ভোররাতে নিজের ঘরেই মৃত্যু হয় দুলাল চন্দ্র মজুমদারের। তারপর থেকেই মৃতদেহ দীর্ঘক্ষণ পড়ে রয়েছে ঘরের মধ্যে, চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাঁটায় পরিবারের লোকেরা।

প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, এদিন সকালে ঘরের মধ্যেই নিজের বিছানাতেই মৃত্যু হয়েছে দুলালবাবুর। পড়শিদের অভিযোগ, ঘটনার পর সারাদিন তাঁর দেহ ওভাবেই পড়েছিল। সারাদিন কেটে গেলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেহ উদ্ধার কিংবা সৎকার, কোনওটারই ব্যবস্থা করা হয়নি। তাঁর পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, বিষয়টি স্বাস্থ্য দফতরকে জানানো হয়েছিল। এমনকি সরকারি হেল্পলাইনেও ফোন করা হয়েছিল। তবে কোথাও থেকে কোনও সাহায্য পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর পর প্রায় ১২ ঘণ্টা দেহ পড়ে রইলো ঘরে। মিললনা কোনও সাহায্য। শেষে স্বাস্থ্য দফতর থেকে দেহ উদ্ধার করে সৎকারের ব্যবস্থা করা হয় বলে জানা গিয়েছে।

