সাথী দাস, পুরুলিয়া, ৪ জুলাই: অবিলম্বে শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে পুরুলিয়ার বাঘমুণ্ডি ব্লক কংগ্রেসের ডাকে বাঘমুণ্ডি বনধে অনেকটাই স্তব্ধ হয়ে যায় এলাকার জনজীবন। সোমবার বনধের জেরে চলেনি বেশ কিছু বেসরকারি বাস। সুইসা বাস স্ট্যান্ড থেকে ১৪ টি পুরুলিয়াগামী বাস বন্ধ থাকায় সমস্যায় পড়েন যাত্রীরা। বেশ কয়েক দিন আগেই বাঘমুণ্ডি ব্লকে শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার প্রতিবাদে এবং শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে ১২ ঘণ্টা বনধের ডাক দেয় বাঘমুন্ডি ব্লক কংগ্রেস। এদিনের বনধে সরকারি দফতরগুলি অবশ্য খোলা ছিল। বিদ্যালয়গুলি খোলা থাকলেও হাজিরা ছিল বেশ কম।
এপ্রসঙ্গে বাঘমুণ্ডি গার্লস হাইস্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা রূপা মেহেতা বলেন, গাড়ি না চলায় স্কুলে হাজিরা কম ছিল। উল্লেখ্য ‘উৎসশ্রী’ প্রকল্পে বাঘমুণ্ডি ব্লকের বিভিন্ন বিদ্যালয় থেকে বহু শিক্ষক বদলি হয়ে যান।
বিষয়টি তুলে ধরে জেলা কংগ্রেস সভাপতি নেপাল মাহাতো বলেন, পরিস্থিতি যা হয়েছে তাতে শিক্ষায় বিপর্যয় নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রতিবাদে আন্দোলনের হুমকি দেন তিনি। এর মধ্যেই জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয় সোমবার থেকেই এখানকার ছয়টি বিদ্যালয়ে পাঠদান শুরু করেছেন দশ জন নতুন শিক্ষক। আগামী দিনে আরও শিক্ষকের সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এদিনের বনধ সফল এই দাবি জানিয়ে জেলা কংগ্রেস সভাপতি নেপাল মাহাতো বলেন, পুরুলিয়া জেলার প্রতি চূড়ান্ত বঞ্চনা রয়েছে রাজ্য সরকারের। এখানকার স্কুলগুলিতে বহিরাগত শিক্ষকরা আসেন। এরপর সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে আবার নিজেদের এলাকায় বদলি হয়ে ফিরে যান তারা। ফলে পুরুলিয়ার স্কুলগুলি শিক্ষকের অভাবে ধুঁকতে থাকে। যে দশজন শিক্ষককে আপাতত দেওয়া হয়েছে তারা সব আপার প্রাইমারির শিক্ষক। এই দাবি করে নেপালবাবু বলেন, গোঁজামিল দিয়ে কোনো সমস্যার সমাধান হয় না। জেলা ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগের দাবি তুলে তিনি বলেন, এনিয়ে আগামী দিনে আন্দোলনের পথে যাবেন তারা।
অভিযোগের কথা অবশ্য স্বীকার করতে চায়নি জেলা তৃণমূল। রাজ্য সরকার পুরুলিয়ার দিকে সমান ভাবে যত্নশীল এই দাবি করে জেলা তৃণমূল সভাপতি সৌমেন বেলথরিয়া বলেন, শিক্ষক সমস্যার সমাধানের জন্য পদক্ষেপ করা হচ্ছে। যে শিক্ষকদের দেওয়া হয়েছে তাদের পড়ানোর মত যথেষ্ট যোগ্যতা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

