রাজ্যের অবস্থা গণতন্ত্রের পক্ষে উপযুক্ত নয়! হাওড়া, রিষড়ার ঘটনা পূর্ব পরিকল্পিত, দাবি কেন্দ্রীয় ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির

আমাদের ভারত, ১০ এপ্রিল: রামনবমীর মিছিলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও হিংসার ঘটনা পুরোটাই পূর্বপরিকল্পিত। কেন্দ্রের কোনো তদন্তকারী সংস্থা না এলে পুরো বিষয়টি উদঘাটন সম্ভব নয়। সাংবাদিক বৈঠকে এমনটাই দাবি করেছে কেন্দ্রীয় ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি। একই সঙ্গে তাদের মতে রাজ্যের অবস্থা গণতন্ত্রের পক্ষে উপযুক্ত নয়।

রাজ্যে এসে সরেজমিনে খতিয়ে দেখে কেন্দ্রীয় ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির যে রিপোর্ট তৈরি করবে সেটা তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কাছেও জমা দেবে বলে জানাগেছে। একই সঙ্গে তাদের তদন্তে বাধা পাওয়ার বিষয়টি রাজ্যপালের কাছে গিয়ে জানাবেন বলে জানা গেছে। রাজ্যপাল কমিটির সদস্যদের ইতিমধ্যেই সময়ও দিয়েছেন বলে জানানো হয়েছে কমিটির তরফে। পরে তারা রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করেন।

রামনবমীর মিছিলে হামলার ঘটনা ঘটেছে রাজ্যের একাধিক জায়গায়। রিষড়া এবং হাওড়ায় ঠিক কী ঘটেছিল তা খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রীয় ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি এসেছে, কিন্তু কেন্দ্রীয় দলকে রিয়ড়ায় ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। এক ঘন্টা তর্কাতর্কির পর কলকাতায় ফিরে আসে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির সদস্যরা। হাওড়াতেও ১৪৪ ধারা দেখিয়ে প্রথমে তাদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। আজ সাংবাদিক বৈঠক করে তারা জানান, রাজ্যের অবস্থা গণতন্ত্রের পক্ষে উপযুক্ত নয়। একইসঙ্গে তাদের দাবি, হিংসার ঘটনায় সঠিক সময়ে প্রশাসন পদক্ষেপ করেনি। পুলিশ প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব ছিল। ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির তরফে বলা হয়েছে মামলাকারীর দাবি পেট্রোল বোমা ছোড়া হয়েছে কিন্তু রিপোর্টে তার উল্লেখ নেই। তাদের কথায়, “এটা সম্ভব নয়, দশ মিনিটে কেউ পাথর নিয়ে ছাদে চলে গেল। পুরোটাই পূর্ব পরিকল্পিত। সেটা রাজ্য পুলিশের পক্ষে তদন্ত করা সম্ভব নয়।”

কেন্দ্রের তদন্তকারী সংস্থা না এলে গোটা ঘটনার তদন্ত করা সম্ভব নয় বলেই মনে করে কেন্দ্রীয় ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি। একই সঙ্গে কমিটির অন্যতম সদস্য ওম প্রকাশ ব্যাস বলেন, “আমরা ভিক্টিমদের সাথে কথা বলেছি এবং এখানে যে ভায়োলেন্সের ছবি দেখলাম, তাতে রাজ্য সব মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। আতঙ্কের মধ্যে মানুষ বেঁচে আছে।”

অন্য আরেকজন সদস্য জানান, “আমরা দেখলাম হুগলিতে সিপিএম শান্তি মিছিল করছে, অথচ আমাদের সেখানে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হলো না। আটকে দেওয়া হল। যেতে দেওয়া হল না। আমরা মানুষের সঙ্গে কথা বলতে এসেছিলাম। আমরা কি এতটাই ভয়ংকর?”

একই সঙ্গে রাজ্যের উদ্দেশ্যে তাদের পরামর্শ, সরকারকে অনেক বেশি সতর্ক থাকতে হতো। কমিটির অভিযোগ,”পুলিশ ওই সময় নিরব দর্শক ছিল। যারা হিংসা করছিলেন তারা পুলিশকে দেখে বরং সাহস পেয়েছে। পুলিশ ভিকটিমদের গ্রেপ্তার করেছে। রাজ্যের প্রধান ‘আমরা-ওরা’ ভাবে কথা বলেছেন। এটা দুর্ভাগ্যজনক। এই মন্তব্যগুলি হিংসা ছড়াতে উৎসাহিত করেছে। গণতন্ত্রের জন্য এটা ঠিক নয়।

হাওড়ার শিবপুর ও রিষড়ার ঘটনা নিয়ে রিপোর্ট দিয়েছে রাজ্য। কিন্তু হাওড়া পুলিশ কমিশনারেটের রিপোর্ট পরিপূর্ণ নয় বলেই মত ফ্যাট ফাইন্ডিং কমিটির।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *