জয় লাহা, দুর্গাপুর, ২২ এপ্রিল: কোম্পানির টাকা আত্মসাৎ করতে ছিনতাইয়ের নাটক। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। পুলিশের জালে ধরা পড়ল অভিযোগকারী দোকান মালিক সহ দুই ভাই। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে অণ্ডাল থানার দক্ষিণখণ্ড গ্রামে। ধৃতদের নাম ছোট্টু আঁকুরিয়া ও খোকন আঁকুরিয়া। অভিযোগের ২ লক্ষ টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার ধৃত দুই ভাইকে দুর্গাপুর আদালতে তোলা হলে, বিচারক তাদের জামিন খারিজ করে দেন।
প্রসঙ্গত, গত ১৯ এপ্রিল দুপুর নাগাদ অণ্ডালের দক্ষিণখণ্ড এলাকায় একটি হার্ডওয়্যারের দোকানে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ আসে পুলিশের কাছে। দুষ্কৃতীরা ব্যাবসায়ীকে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে দোকানের ক্যাস বাক্স থেকে প্রায় ৭ লক্ষ টাকা লুট করে চম্পট দেয় বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থলে ব্যাবসায়ী ছোট্টু আঁকুড়িয়া জ্ঞান হারান। তাঁকে উদ্ধার করে অণ্ডালের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এদিন সন্ধ্যায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়ায়। ঘটনাস্থলে পুলিশ তদন্তে এসে একটি কার্তুজ উদ্ধার করে। গোটা ঘটনার রহস্য উদ্ধার করে অন্ডাল থানার পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণখণ্ড এলাকার বাসিন্দা বছর ৩০ এর ব্যবসায়ী ছোট্টু আঁকুরিয়া। তিনি প্রায় ৪ বছর ধরে হার্ডওয়্যারের ব্যবসা করছেন। তাদের একটি নিজস্ব এজেন্সি রয়েছে। যার মাধ্যমে ফাইবার পাইপ কোম্পানীর সামগ্রী বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, দুই বর্ধমান, বীরভূম এমনকি ঝাড়খন্ড রাজ্যে বিক্রি করে। পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, ওই কোম্পানীর ৭ লক্ষ টাকা রাখা ছিল। আর ওই টাকা গায়েব করতেই ছিনতাইয়ের নাটক ফাঁদে ছোট্টু ও খোকন আঁকুরিয়া। ঘটনাস্থলে একটি কার্তুজের খোল ফেলে নাটকের শুরু হয়। তারপর তাদের হিসাবরক্ষককেও তাদের নাটকে সামিল করে। তবে সাজানো নাটক ধরা পড়ে যায় পুলিশের তদন্তে।
স্বাভাবিকভাবেই প্রাথমিক ভাবে প্রশ্ন ওঠে, দিনদুপুরে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে দুষ্কৃতীরা ছিনতাই করল, অথচ আশপাশের কেউ টের পেল না। আরও প্রশ্ন, দোকানের সিসিটিভি না থাকায় রহস্য আরও ঘনীভূত হয়। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে দুই ভাইয়ের অসংলগ্ন কথাবার্তা ও অসঙ্গতি ধরা পড়ে। এবং পুলিশ দুজনকে গ্রেফতার করে। ধৃতদের কাছে, অভিযোগে জানানো ৭ লক্ষ টাকার মধ্যে ২ লক্ষ টাকা পুলিশ উদ্ধার করে। পুলিশ জানিয়েছে, আদালতে ধৃত দুই ভাইকে নিজেদের হেপাজতে নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।

