রাজেন রায়, কলকাতা,২৭ এপ্রিল: অষ্টম দফায় একবারে শেষ লগ্নে পড়েছে বীরভূমের ভোট। আর বীরভূমের ভোটে অনুব্রত মণ্ডল বরাবরই তৃণমূলের পক্ষে একটা গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর। সপ্তম দফা ভোটের দিনেই অর্থাৎ সোমবার গরু পাচার মামলায় তাকে তলব করেছিল সিবিআই। কিন্তু ভোট না মিটলে তাকে কোথাও যেতে বারণ করেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তাই এবার শেষ অস্ত্র প্রয়োগ করল নির্বাচন কমিশন।
বীরভূমে ভোটের মুখে নজরবন্দি করার নির্দেশ দেওয়া হল অনুব্রত মণ্ডলকে। আজ মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটা থেকে ৩০ তারিখ অর্থাৎ ভোটের পরদিন শুক্রবার সকাল ৭টা পর্যন্ত তাঁকে নজরবন্দি করার নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন। কমিশন সূত্রে খবর, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যাতে কোনও ব্যাঘাত না ঘটে, সে কারণেই এই সিদ্ধান্ত। নজরবন্দির দায়িত্বে থাকবেন একজন এগজিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। এই গোটা প্রক্রিয়াটির ভিডিওগ্রাফিও করা হবে।

কিন্তু নজর বন্দি করা হলেও মোবাইল ফোনটি কাছেই থাকবে অনুব্রত মণ্ডলের। তার মাধ্যমে তিনি তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারেন। তার জন্য পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে নির্বাচন কমিশন। এর আগে বেশ কিছু ভোটেও অনুব্রত মণ্ডলকে নজর বন্দি করেছে কমিশন। ২০১৬-র বিধানসভা ভোট ও ২০১৯ লোকসভা ভোটেও তৃণমূলের বীরভূম জেলা সভাপতিকে নজরবন্দি করেছিল কমিশন।
কিন্তু ভোট এলেই অনুব্রত মণ্ডল কে ঘিরে এত আতঙ্ক কেন বিরোধীদের? বিরোধীরা বলেন, ভোটের সময়ে এইসব কথা বলে তিনি নাকি আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করেন! কমিশন সূত্রে খবর, ভোটের মুখে অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জমা পড়ে। প্রাথমিক তদন্তের পর বীরভূমের পুলিশ সুপার যে রিপোর্ট দিয়েছেন, সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে অনুব্রতকে নজরবন্দি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এর আগে পশ্চিমবঙ্গে একাধিক দাপুটে রাজনৈতিক নেতা এলেও একই রাজনৈতিক নেতাকে প্রত্যেকবার ভোটে নজর বন্দি করার সিদ্ধান্ত নজিরবিহীন বলে দাবি তৃণমূলের।

