রাজেন রায়, কলকাতা, ১২ এপ্রিল: আগামী ২৪ ঘণ্টা অর্থাৎ সোমবার রাত ৮ টা থেকে মঙ্গলবার রাত ৮ টা পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচার করতে পারবেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার সন্ধ্যেয় বিজ্ঞপ্তি জারি করে বিষয়টি জানিয়ে দেয় নির্বাচন কমিশন। তৃণমূল নেত্রীর একাধিক মন্তব্যের ফলে নির্বাচনী বিধিভঙ্গের জেরে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন। কমিশনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মঙ্গলবার গান্ধী মূর্তির পাদদেশে ধরনায় বসবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। টুইটে সেকথা জানালেন খোদ তৃণমূল নেত্রী।
সম্প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুটি বিতর্কিত মন্তব্য করেন। একটি মন্তব্য ছিল সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোট সংক্রান্ত, অপর মন্তব্যটি ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঘেরাও প্রসঙ্গে। তাঁর এই দুই মন্তব্যের জেরে রাজ্যের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তি বিঘ্নিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছিলেন বিরোধীরা। এর পরই ৭ এপ্রিল তৃণমূল নেত্রীকে শোকজ করে কমিশন। ৯ তারিখ সেই শোকজের জবাব তিনি দিলেও সেই জবাবে কিন্তু সন্তুষ্ট নয় কমিশন। তাঁদের দাবি, শোকজের বাছাই করা অংশের জবাব দিয়েছিলেন তিনি। তাই এবার আরও কড়া পদক্ষেপ করল কমিশন। ১৭ তারিখ রাজ্যে পঞ্চম দফার নির্বাচন। তার আগে ২৪ ঘণ্টার জন্য তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি করে কমিশন। সঙ্গে সঙ্গে এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ধরনায় বসার সিদ্ধান্ত নেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
তৃণমূলের পাশাপাশি এই ঘটনায় কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ করেছেন বাম নেতা তথা যাদবপুরের সিপিএম প্রার্থী সুজন চক্রবর্তী। তিনি বলেন, “যদি প্রচার বন্ধ করতে হয়, তবে শীতলকুচি মন্তব্যের জেরে দিলীপ ঘোষ, রাহুল সিনহা ও সায়ন্তন বসুর প্রচারও বন্ধের নির্দেশ দেওয়া উচিত। তবেই প্রমাণিত হবে, কমিশন পক্ষপাতিত্ব করছে না।” ইতিমধ্যেই ঘটনার প্রতিবাদে টুইটে তৃণমূলের সর্বভারতীয় মুখপাত্র ডেরেক ও ব্রায়েন লিখলেন, ‘গণতন্ত্রের কালো দিন।’ ‘টুইট করেছেন ফিরহাদ হাকিমও। তাঁর দাবি, ‘মানুষের হৃদয় থেকে মমতাকে সরানো যাবে না।’

