পার্থ খাঁড়া, ঝাড়গ্রাম, ৭ জুন: প্রতিবাদী জনসভায় কুড়মিদের ভিড়ে স্তব্ধ হয়ে গেল ঝাড়গ্রাম শহর। রাজ্য সরকারকে কোনোভাবেই সমর্থন নয়, ঝাড়গ্রামের কুড়মিদের প্রতিবাদ জনসভা থেকে সাফ জানিয়ে দিলেন আদিবাসী কুড়মি সমাজের মূলখুঁটি মূলমানতা অজিত প্রসাদ মাহাতো।
কুড়মি নেতাদের গ্রেফতার, পুলিশি সন্ত্রাসের প্রতিবাদ এবং কুড়মি নেতাদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিকে সামনে রেখে মঙ্গলবার ঝাড়গ্রাম শহরের অফিসার ক্লাবের ময়দানে প্রতিবাদী জনসভার আয়োজন করা হয়। এই জনসভায় জঙ্গলমহলের চার জেলা থেকে যাত্রীবাহী বাস, লরি এবং ছোট পণ্যবাহী ও যাত্রীবাহী গাড়িতে করে কুড়মি সমজের মানুষজনরা আসেন। কুড়মি সমাজের জমায়েতে স্তব্ধ হয়ে যায় ঝাড়গ্রাম শহর।
অফিসার্স ক্লাবের ময়দানে প্রতিবাদী সভা হলেও শহরে তিনটি প্রান্তে লাগানো হয়েছিল জয়েন্ট স্ক্রিন। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া থেকে যে যে সমস্ত কুড়মি মানুষরা এসেছিলেন তারা জামদা সার্কাস ময়দানে গাড়ি রেখে বিশাল মিছিল করে অফিসার্স ক্লাবের ময়দানে পৌঁছায়। অপরদিকে, ঝাড়গ্রাম শহরের ঢোকার প্রতিটি রাস্তায় দিয়ে কুড়মিদের মিছিল ঝাড়গ্রাম শহরে ঢুকতে থাকে। কিছুক্ষণের মধ্যেই শহরের প্রতিটি রাস্তা কুড়মিদের হলুদ পতাকা ও জয় গরাম ধ্বনিতে ভরে ওঠে।

উল্লেখ্য, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নবজোয়ার কর্মসূচিতে তার কনভয়ের উপর হামলা এবং মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদার গাড়ি ভাঙ্গচুরের অভিযোগে সিআইডি ১১ জন কুড়মি নেতা এবং আন্দোলনকারীকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতার হয়েছেন কুড়মি সমাজ পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সভাপতি রাজেশ মাহাতো, আদিবাসী জনজাতি কুড়মি সমাজের রাজ্য সভাপতি শিবাজী মাহাতো, আদিবাসী নেগাচারি কুড়মি সমাজের রাজ্য সভাপতি অনুপ মাহাতো সহ কুড়মি সমাজের অন্যান্য নেতা এবং আন্দোলনকারীরা।
কুড়মি সমাজের দাবি তাদের নেতাদের অন্যায় ভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে। কুড়মিদের উপর রাজ্য সরকার পুলিশ দিয়ে সন্ত্রাস চালাচ্ছে, কুড়মি আন্দোলনকে দমন করার চেষ্টা করছে। অবিলম্বে গ্রেফতার হওয়া কুড়মি নেতা এবং আন্দোলনকারীদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি তোলা হয় এদিনের জনসভা থেকে।
আদিবাসী কুড়মি সমাজের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সঞ্জয় মাহাতো মঞ্চে বক্তব্য রাখার সময় বলেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কনভয়ে অনেক গাড়ি ছিল। তাহলে কেবলমাত্র লিস্টেড আদিবাসী মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদার গাড়ি কেন ভাঙ্গচুর করা হলো। এর থেকে একটা জিনিস পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে আদিবাসী এবং কুড়মির মধ্যে লড়াই লাগানোর চক্রান্ত চলছে। আমরা আমাদের নিজস্ব দাবিতে আন্দোলন করছি। আমরা একই গ্রামের মধ্যে কুড়মি আদিবাসী সকলে মিলেমিশে থাকি। আমাদের লড়াই লাগিয়ে অন্যান্য লোকেরা রাজত্ব করতে চায়।”
সঞ্জয় মাহাতো আরও দাবি করেন, “নরেন্দ্র মোদীর জাত নিয়ে কথা বলার জন্য যদি রাহুল গান্ধীর সাংসদ পদ খারিজ হতে পারে তাহলে কুড়মিদেরকে রাস্তায় এনে পেটানো কথা বলে কুড়মিদের জাত তুলে হাজারো কথা বলেছে তার জন্য বিধায়ক দুলাল মুর্মর বিধায়ক পদ খারিজ হওয়া উচিত।”

এদিনের এই প্রতিবাদী জনসভায় কুড়মি সমাজের পশ্চিমবঙ্গর বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃত্বদের পাশাপাশি ওড়িশা এবং ঝাড়খণ্ডের নেতৃত্বরা উপস্থিত ছিলেন।অজিত প্রসাদ মাহাতো বলেন, “আমাদের সমাজের কুড়মি নেতা এবং কুড়মি আন্দোলনের উপর অন্যায় ভাবে অত্যাচার হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে আমাদের এই প্রতিবাদী জনসভা। একটা জেলার কথাই বলছি যেখান থেকে ৭২০টা ছোট গাড়ি এবং ১৩২টা বড় বাস ভরে মানুষ এই জনসভায় যোগ দেওয়ার জন্য এসেছে। বর্তমান সময়ে রাজ্য সরকারকে আমরা কোনওমতেই সমর্থন করছি না। কেন করছি না? কারণ এই সরকার সাত বছর ধরে আমাদের কমেন্ট এন্ড জাস্টিফিকেশন কেন্দ্র সরকারের কাছে পাঠায়নি। এটার জন্য মূলত আমাদের লড়াই। এই নেত্রীকে আমি বিশ্বাস করেছিলাম, কারণ অনেক লড়াই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে মমতা ব্যানার্জি ক্ষমতায় এসেছে। সেই সংগ্রামটা আমি জানি। আমার পিঠে গুলি লেগেছে। আমি বহুবার জেলে গেছি। তার সংগ্রামের জন্য আমি তাকে খুবই ভালবাসতাম, তাই আমি সাত বছর কিছু বলিনি। কুড়মি গ্রামের কোনও ঘরে দেওয়ালে কোনও দলের রাজনৈতিক প্রচার আমরা করতে দেব না । আর এখানে কুড়মি আন্দোলনকারী নেতাদের অন্যায় ভাবে গ্রেফতার করা হচ্ছে। তাদের অবিলম্বে নিঃশর্তে মুক্তি দিতে হবে।”

