প্রতীতি ঘোষ, ব্যারাকপুর, ৯ ডিসেম্বর: শ্যামনগর পুরানো পোস্ট অফিস মোড় থেকে শ্যামনগর স্টেশন পর্যন্ত ঘোষপাড়া রোডের ধারে বেআইনি ভাবে গড়ে উঠেছে বহু দোকান। বৃহস্পতিবার সেই ফুটপাত দখলদারদের জায়গা খালি করার নির্দেশ দিলেন ভাটপাড়ার পুর প্রশাসক গোপাল রাউত। বৃহস্পতিবার দুপুরে পুর প্রশাসক গোপাল রাউত জগদ্দল থানার পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে ঘোষপাড়া রোডের দু-পাশ পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের পর পুর প্রশাসক হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অবৈধভাবে দখল করা জায়গা খালি করে দিতে হবে।
কাঁচরাপাড়া থেকে ব্যারাকপুর হয়ে কলকাতাগামী অন্যতম প্রধান সড়ক ঘোষপাড়া রোড। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে এই সড়কই এক প্রকার উপার্জন ক্ষেত্রের রূপ নিয়েছে। এই সড়ককে কেন্দ্র থেকে করে ব্যবসার পসরা সাজিয়ে বসে গ্রাম অঞ্চল থেকে আসা প্রচুর ব্যবসায়ী। ফলে এই সড়কে প্রতিনিয়ত যানজট লেগেই থাকে। পৌর প্রশাসনিক ক্ষেত্রে বহু অভিযোগ এবং বিভিন্ন বাধানিষেধের পরেও তেমন কোনও সাড়া দেখা যায়নি এতদিন। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বৃহৎ ব্যবসায়ীদের ভাঁড়ারে টান পড়ার ফলে অভিযোগের ভিত্তিতে নড়েচড়ে বসল পৌর প্রশাসন।

শ্যামনগর স্টেশন সংলগ্ন ঘোষপাড়া রোড অঞ্চলে রাস্তার উপর জবর দখল করে ব্যবসার পসরা সাজিয়ে বসেছে কয়েকশো সবজি ব্যবসায়ী, আর এরই ফলে ব্যবসায় মন্দার প্রভাব পড়েছে সংগঠিত বাজার ব্যবসায়ীদের মধ্যে। এছাড়াও ফুটপাতজুড়ে দোকান হওয়ার কারণে রাস্তায় যানবাহনের যানজট থেকে, আবর্জনার স্তুপ জঞ্জাল এবং পথদুর্ঘটনা লেগেই থাকে। এনিয়ে বাজার ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে চলতি সপ্তাহে অভিযোগ জানানো হয় ভাটপাড়া পৌরসভায়। আজ ভাটপাড়া পৌরসভার পৌর প্রশাসক গোপাল রাউত এবং জগদ্দল থানার পুলিশ আধিকারিকরা শ্যামনগর স্টেশন সংলগ্ন ঘোষপাড়া রোড পরিদর্শন করলেন, একইসাথে ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে ফুটপাতে ব্যবসা বন্ধ করার নির্দেশ দিলেন। তাছাড়া পাকা দোকানের সামগ্রী ফুটপাতের ওপর রাখা যাবে না। রাস্তার দিকে বাড়ানো শেড ভেঙ্গে ফেলতে হবে। যদি দখলদারেরা নির্দেশ না মানেন, তাহলে প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা নেবে বলে দাবি পুর প্রশাসক গোপাল রাউতের।
এদিন পৌর প্রশাসক গোপাল রাউত বলেন,
“দিন দিন ঘোষ পাড়া রোডে বেড়ে চলা যানজট ও পথ দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রন করতে ফুটপাতে বসা অবৈধ দোকানগুলি তুলে দেওয়া দরকার। আমাদের কাছে এই বিষয়ে বারবার অভিযোগ আসছিল তাই আজ আমি নিজেই বিষয়টি দেখে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করছি। আর নির্দেশ দিয়েছি অবৈধ দোকান তুলে দিয়ে ফুটপাত খালি করার।” এদিন পুর প্রশাসকের সঙ্গে ছিলেন অরুন সাউ ও ধর্মেন্দ্র সিং।

