পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২০ মার্চ: অন্যান্য দিনের মতো শুক্রবার সকালে খড়্গপুরের তালবাগিচা এলাকায় চা চক্রে বেরিয়েছিলেন বিজেপি নেতা তথা খড়্গপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষ। সেখানে চা চক্র সেরে উপস্থিত কর্মীদের সামনে একটি পথ সভা করেন। সভার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তৃণমূল নেত্রী ও তৃণমূল নেতা- কর্মীদের চরমভাবে খোঁচা দেন তিনি।

নিজের বক্তব্য এদের তিনি বলেন, “রাজ্য সরকার ওদের, খড়্গপুরে পৌরসভা ওদের, তারপরেও খড়্গপুর জুড়ে কোনরকম উন্নয়ন করতে পারেনি। ওদের সমস্ত কিছু কাজের লক্ষ্য হলো লুটপাট। একটা রাস্তা পর্যন্ত করতে পারে না। রাজ্যে বিভিন্ন ব্রিজ ভেঙ্গে পড়ছে। এখানেও মোহনপুর ব্রিজ ভেঙ্গে পড়বে বলে ওদের ইঞ্জিনিয়াররাই জানিয়ে দিয়েছে। অথচ তার জন্য কোনো উদ্যোগ ছিল না। শুধুমাত্র ব্রিজের উপরে দিনের বেলা গাড়ি আটকে রাতের বেলা টাকা নিয়ে গাড়ি ছেড়ে দেয়। আমি কেন্দ্রে গিয়ে গডকরিকে বলে মোটা টাকা এনে ব্রিজের কাজ শুরু করছি। কিন্তু সেখানেও ওরা নারকেল ফাটাতে ছুটছে। সংসদ কোটার অর্থে যে সমস্ত উন্নয়ন করতে গিয়েছি, সব জায়গাতেই ওদের কাজ যেটা আটকে দেওয়া। আমার সঙ্গে একবার ওদের মুখ্যমন্ত্রীর দেখা হয়েছিল। আমাকে দেখে তাঁর মুখে হাসি এসেছিল। কিন্তু তাঁর নিজের দলের কর্মীদের দেখলে মুখ শুকিয়ে যায়। একটা শিল্প পর্যন্ত এখানে করতে দেয় না ওরা। শিল্পপতিরা পাশের রাজ্যে পুলিশ সাথে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। সেখানে তাদের কোনো সমস্যা হলে সঙ্গে সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী ছুটে আসেন। আর এখানকার নেতা-মন্ত্রীরা শিল্পপতির কাছ থেকে লুট করার জন্য ছোটে।”

এদিন তিনি বলেন, “এই সরকারের এক মুহূর্ত আর থাকা উচিত নয়। চিকিৎসা করতে গেলে ভিন রাজ্যে যেতে হয়, কাজ খুঁজতে ভিন রাজ্যে যেতে হয়, তাহলে এই রাজ্যে সরকারের দায় কী? আমরা তাই বলে দিয়েছি ক্ষমতায় এলে দেড় মাসের মধ্যে বকেয়া ডিএ মেটাবো, বেতন বাড়াবো, কর্মী নিয়োগ হবে বিজ্ঞাপন দিয়ে। এমন কী যাদের চাকরি ওরা খেয়েছে, তাদের ৫ বছরের শিথিলতা দিয়ে পুনরায় নিয়োগের সুযোগ দেব।”

