স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ১ আগস্ট: নতুন সাতটি জেলার ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। এই সাতটি জেলার মধ্যে নদিয়া জেলাকে ভেঙে নতুন রাণাঘাট জেলা ঘোষণা করা হল। সোমবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নবান্ন থেকে রাজ্যের মোট সাতটি জেলার ঘোষণা করলেন। এই জেলাগুলি হল- রাণাঘাট, সুন্দরবন, ইচ্ছামতী (উত্তর ২৪ পরগণার বনগাঁ মহাকুমা ও বাগদা নিয়ে), বসিরহাট, বিষ্ণুপুর, বহরমপুর, জঙ্গীপুর এবং কান্দী জেলা।
এই নতুন ভাবে জেলা ঘোষণার কারণ হিসাবে প্রশাসনিক সুত্রে জানাগেছে, আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা এবং উন্নত মানের পরিষেবা দিতেই এই জেলাগুলির ঘোষণা করা হয়েছে। জেলা ভাগ করার সুবিধা হিসাবে জানানো হয়েছে, এর আগে নদিয়া জেলার সদর শহর ছিল কৃষ্ণনগর। জেলার কল্যাণী থেকে মদনপুর, হরিণঘাটা থেকে রানাঘাট পর্যন্ত বিস্তৃত এই জেলার প্রশাসনিক কাজের জন্য কৃষ্ণনগরে আসতে হত মানুষদের। এর ফলে দূরত্ব একটা বড় কারণ ছিল। সেই দূরত্ব থেকে মানুষ এবার রেহাই পাবে। আসলে জেলার প্রত্যন্ত এলাকার মানুষদের আসা যাওয়ার খরচ ভালোই লাগে। পাশাপাশা মানুষকে হয়রানিও হতে হয়। এই জেলা বিভক্তের ফলে মানুষকে হয়রানিও হতে হবে না। এছাড়া জেলা ভিত্তিতে সরকারের অর্থ বরাদ্দ ও বণ্টন হয়। সেক্ষেত্রে একটি জেলা ভেঙে দুটি হলে কেন্দ্রের বরাদ্দ আলাদা আলাদাভাবে আসবে। এর ফলে সাধারণ মানুষদের জন্য বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ আরও ভালোভাবে করা যাবে বলে মনে করছেন প্রশাসনিক আধিকারিকরা।
অন্যদিকে জেলা বিভক্তের ফলে জেলার সংখ্যা যেমন বেড়ে যাবে, আবার এর ফলে সরকারি আধিকারিক থেকে পুলিশ কর্মীও অতিরিক্ত লাগবে। এর ফলে সরকারের খরচাও বেড়ে যাবে বলে অনেকের অভিমত।
অন্যদিকে বিরোধীদের অভিযোগ, এই জেলা বিভক্তের ঘোষণাকে তারা ভালো কাজ বলতে নারাজ। এমনিতেই রাজ্যে যেভাবে ক্রমাগত খুন ধর্ষণ ও আইন শৃঙ্খলার অবনতি ঘটে চলেছে। তাতে জেলা বিভক্তের ফলে এই কাজ আরও বাড়বে।
এছাড়াও প্রশাসনিক মহলের একাংশ মনে করছেন, এই জেলা বিভক্তের ফলে পুলিশের সংখ্যা যেমন বাড়াতে হবে এবং পুলিশি নজরদারিও আরও বেশি বাড়ানো সম্ভব হবে এরফলে আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখা সম্ভব হবে।
শান্তিপুরের তৃণমূল বিধায়ক ব্রজ কিশোর গোস্বামী জানান, “এতদিন আমাদের পুলিশ জেলাটা ভাগ ছিলই, এবার আমাদের জেলা হয়ে গেল। তাতে আমাদের কাজকর্মের ক্ষেত্রে অনেক সুবিধা হবে। যখনই ভাঙা হয় তখনই ভালো হয়। আর মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী সব সময় জনগণের স্বার্থে সিদ্ধান্ত নেন, তাই আমি তার এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাচ্ছি”।
নদিয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার বিজেপির সভাপতি তথা বিধায়ক রানাঘাট উত্তর-পশ্চিম কেন্দ্রের পার্থসারথি চ্যাটার্জি জানান, “এটা একদিকে যেমন ভালো অন্যদিকে নতুন নতুন জেলা গঠন করে তো রাজ্যে উন্নয়ন হয় না, রাজ্যের উন্নয়নের লক্ষ্যে কি পদক্ষেপ নিচ্ছে সেটাই পরিষ্কার নেই। শুধু মেলা আর খয়রাতি দিয়ে আর ৫০০ টাকা লক্ষ্মীর ভান্ডার দিয়ে উন্নয়ন হয় না। এর সাথে সাথে উন্নয়নের জন্য দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে, চুরি করা বন্ধ করতে হবে। আর রানাঘাট জেলা হওয়াতে আমাদের সুবিধা হবে। তবে তার সঙ্গে খেয়াল রাখতে হবে সেটা যেন কল্যাণী বেস না হয়ে যায়। এর আগে ঘোষণা করা হয়েছিল রানাঘাট কেন্দ্রীক পুলিশ কিন্তু পরে দেখা গেল সেটা কল্যাণী চলে গেছে। যেহেতু রানাঘাট জেলা সেহেতু পুরোটাই যেন রানাঘাট কেন্দ্রীক হয়”।
বিজেপি নদিয়া দক্ষিণ জেলার এসসি মোর্চার সভাপতি অঙ্কন সরকার বলেন, “জেলা ভাগ না হলেও অসুবিধা কিছু হচ্ছিল না সুবিধা যেটা হল টিএমসির। নতুন জেলা হলে নতুন দুর্নীতি হবে। আর যে এত বড় পশ্চিমবঙ্গের দুর্নীতিটা হল সেই দুর্নীতিটাকে ঘোরানোর চেষ্টা হচ্ছে। আজকের এই কাউকে না জিজ্ঞাসা করে জেলা ভাগের সিদ্ধান্ত নেওয়া মানুষের মন থেকে দুর্নীতির বিষয় ঘোরানো ছাড়া আর কিছুই নয়। পার্থ দার টেট
দুর্নীতিকে ঘোরানোর জন্যই এই জেলা ভাগের ঘোষণা করা”।
বিজেপির রাজ্য সহ-সভাপতি তথা নদিয়া দক্ষিণের সাংসদ জগন্নাথ সরকার জানান, অতীতেও এই জেলা পুলিশ জেলা ছিল। উদ্দেশ্য ছিল রানাঘাট জেলার এসপিকে দিয়ে বা পুলিশ প্রশাসন দিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টির কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক দখলে নিয়ে আসা। কিন্তু তা পুরোপুরি সম্ভব হয়নি। আসলে নামেই রানাঘাট পুলিশ জেলা ছিল। মানুষের সুবিধার্থে কিছুই হয়নি। জেলা যখন ভাগ হবে সম্পূর্ণ সুবিধা মানুষকে দিতে হবে জেলায়। আর যদি একা পুলিশ পারছে না জেলা শাসককে দিয়ে বা পুলিশ প্রশাসন দিয়ে রাজনৈতিক মেরুকরণ করার দরকার তাহলে সেটা খুবই দুঃখজনক”।

