মন্ত্রিসভা গঠনের দিনেও রাজ্যের সবাইকে বিনামূল্যে টিকা দেওয়ার আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

রাজেন রায়, কলকাতা, ১০ মে: রাজ্যের বিভিন্ন দপ্তরের দায়িত্ব মন্ত্রীদের মধ্যে ভাগ করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তা সত্বেও এখন সব মন্ত্রীদের যেন একটাই দায়িত্ব তা হল করোনা পরিস্থিতি সামলানো। তাই রাজ্যের সবাইকে বিনামূল্যে টিকা দেওয়া হবে, নবান্ন থেকে ফের একবার আশ্বস্ত করলেন মুখ্যমন্ত্রী। সোমবার নবান্নে রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সাংবাদিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই তিনি বলেন, ‘বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে ১ কোটি টিকা দেব। রাজ্যের সবাইকে বিনামূল্যে টিকা দেব।’

বিধানসভা নির্বাচনের আগেও মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, রাজ্যের সবাইকে বিনামূল্যে টিকা দেওয়া হবে। সেই জন্য টিকা চেয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে চিঠিও লেখেন তিনি। জানা গিয়েছে, সোমবার বিকেল মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ৪ লক্ষ টিকা রাজ্যে পৌঁছবে। রবিবার এক লক্ষ কোভ্যাক্সিন এসে পৌঁছেছে শহরে।

এদিন, সাংবাদিক বৈঠকে টিকার জোগান নিয়ে ফের কেন্দ্রীয় সরকারকে খোঁচা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘কেন্দ্রীয় সরকার পর্যাপ্ত টিকা দিয়ে সাহায্য করছে না। ৩ কোটি টিকা চেয়ে পেয়েছি মাত্র ১ লক্ষ। ৩০ হাজার কোটি টাকা খরচা করে সরকার টিকা দিতে পারে। কেন দিচ্ছে না সেটা জানি না। কোভিড মোকাবিলায় ব্যবহৃত সরঞ্জামে যেন জিএসটি না নেওয়া হয়। দেশে উৎপাদিত ৬৫ শতাংশ টিকা বাইরে গেলে অন্য দেশ থেকে আনাতে হবে। কোথা থেকে টিকা আনানো হবে, তা কেন্দ্রীয় সরকার ঠিক করুক।”

তিনি আরও বলেন, ”এর জন্য সুস্পষ্ট নীতি দরকার। সরকারের অগ্রাধিকার কোভিড মোকাবিলা। কিন্তু এর মধ্যেও কেন্দ্রীয় দল এসে উত্তেজনা ছড়াচ্ছে। আমি প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছি। তারপর দাবি করা হয়েছে, কোভিড সরঞ্জামে জিএসটি নেওয়া হচ্ছে না। কিন্তু কোথাও কোথাও নেওয়া হচ্ছে বলে খবর পেয়েছি।’’ রাজ্যে এখনই লকডাউন হচ্ছে না। মমতা বলেন, ‘লকডাউনের ঘোষণা না করে, লকডাউনের মতো সাধারণ মানুষকে আচরণ করতে হবে। কারণ লকডাউন ঘোষিত হলে সাধারণ মানুষের অসুবিধা হবে। দরিদ্র মানুষ না খেতে পেয়ে মারা যাবেন, সেটা আমরা চাই না।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *