রাজেন রায়, কলকাতা, ৩ মার্চ: কথায় বলে সময় যখন খারাপ যায় তখন সবকিছুই হতে থাকে বিরুদ্ধ। নন্দীগ্রামে প্রচারের শুরুতেই পায়ে আঘাত পাওয়ার পরেও হুইলচেয়ারে করে বিভিন্ন জায়গায় রোড’শো এবং জনসভা করছেন মমতা। হাওড়ার কাজীপাড়া থেকে সালকিয়ার মধ্যে আজ রোড’শো করতে গিয়ে অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে পড়তে হল তৃণমূল নেত্রীকে।
হুইল চেয়ারে বসে আছেন অসহায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিকে তাঁর দেহরক্ষীর দিকে তেড়ে এল পেল্লায় মাপের এক ষাঁড়। তারপরই মুখ ঘুরিয়ে আবার তেড়ে গেল ঘাসফুল পতাকাধারী সমর্থকদের দিকে। তাকে সামলাতে তখন হিমশিম খাচ্ছেন পুলিশ, নিরাপত্তা কর্মী থেকে স্থানীয় তৃণমূল সমর্থকরা। শেষ পর্যন্ত বেশ কিছুক্ষণ বাদে তাকে নিয়ন্ত্রণে আনে লাঠিধারী পুলিশই। কিন্তু, বেশ খানিকক্ষণের জন্য থেমে রইল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই রোড’শো।

শনিবার বিকালে হাওড়া মধ্য ও শিবপুরের তৃণমূল প্রার্থীর সমর্থনে হাওড়া জেলার কাজিপাড়া থেকে সালকিয়া পর্যন্ত রোড শো করছিলেন মমতা। বিপুল জনসমাগম হয় সেই রোড শো-তে। রাস্তার দুইপাশ থেকে বিভিন্ন বয়সের মানুষ মমতাকে দেখার জন্য ভিড় করেছিলেন। সেই রোড শো-তে মানুষের ভিড় দেখে বেশ খোশ মেজাজে ছিলেন তৃণমূল নেত্রী। কিন্তু, মিছিল শেষ হওয়ার মুখেই ঘটল অঘটন।

আচমকাই, তৃণমূল কংগ্রেসের সেই মিছিলে ঢুকে পড়ে খ্যাপা ষাঁড়টি। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ওই ষাঁড়টি রোজই ওই রাস্তা দিয়ে হেঁটে যায়। এদিন তৃণমূলের মিছিলে বিপুল জনসমাগম এবং তাদের মুহূর্মুহু ‘খেলা হবে’, ‘বাংলা নিজের মেয়েকেই চায়’ ইত্যাদি স্লোগানে সে বিভ্রান্ত হয়ে যায়। আর তারপরই মিছিলে হাঁটা মানুষদের তাড়া করে সে। মমতার দেহরক্ষীরা কিন্তু শেষ পর্যন্ত ষাঁড়কে তাড়াতে পারেননি। পুলিশ এবং স্থানীয় মানুষজন শেষ পর্যন্ত রাস্তায় নেমে ষাঁড়টিকে সরিয়ে দেয়। সামান্য এই অযাচিত বিঘ্ন ছাড়া রোড’শো মানুষের সমর্থনের বিপুলভাবে সফল হয়েছে বলে দাবি তৃণমূল নেত্রীর।


