আমাদের ভারত, ১৮ মার্চ: চার রাজ্যে বিধানসভা ভোটের দামামা বেজেছে। মাঠে ময়দানের সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়াতেও জোরদার প্রচার চলছে প্রত্যেকটা দলের। সূত্রের খবর, এরই মধ্যে সমাজ মাধ্যমের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি পদক্ষেপ করতে চলেছে কেন্দ্র সরকার। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী সোশ্যাল মিডিয়ায় কনটেন্ট ব্লক করার ক্ষমতা রয়েছে ইলেকট্রনিক্স এবং ইনফরমেশন টেকনোলজি মন্ত্রকের হাতে। কিন্তু আগামী দিনে এই ক্ষমতা অন্যান্য মন্ত্রকের হাতেও তুলে দেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের তরফে।
একটি সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমকে বৈষ্ণব জানিয়েছেন, নানা মন্ত্রক থেকে আধিকারিদের নিয়ে গঠিত হয়েছে বিশেষ দল। আপাতত ওই দল একটি প্রস্তাব তৈরি করেছে। প্রস্তাবের মূল উদ্দেশ্য, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো এবং ক্ষতিকারক পোস্ট ব্লক করা। ব্লক করার অধিকার অন্যান্য মন্ত্রকের হাতে কিভাবে তুলে দেওয়া যায় সেটাই বিস্তারিত উল্লেখ করা হবে প্রস্তাবে।
অশ্বিনী জানিয়েছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়া রুখতে ব্লক করা অত্যন্ত প্রয়োজন। সেই ব্লকিং- এর ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ করলে ক্ষতিকর কনটেন্ট রুখে দেওয়া আরো সহজ হবে।
ভিডিওগুলির উদাহরণ টেনে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, সোশ্যাল মিডিয়ায় পাওয়া কনটেন্ট গুলি যাচাই না করেই শেয়ার করে ফেলেন আমজনতা। তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক ওই কনটেন্ট গুলির সত্যতা যাচাই করে ব্লক করার নির্দেশ দেয়। সেই ক্ষমতা যদি অন্যান্য মন্ত্রকের হাতেও থাকে তাহলে পোস্টগুলি দ্রুত চিহ্নিত করা যাবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো কনটেন্ট ছড়ানোর মাত্রা অনেকখানি কমবে। মন্ত্রী আরো জানিয়েছেন, আইটি অ্যাক্ট সংশোধন না করেই যেন অন্যান্য মন্ত্রকের হাতে পোস্ট ব্লক করার ক্ষমতা তুলে দেওয়া যায় তার চেষ্টা চলছে।
কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে ক্ষতিকারক কনটেন্টের নামে সরকারের সমালোচনামূলক পোস্ট ব্লক করা হবে না তো? একই সঙ্গে নতুন এই প্রস্তাবে আইটি অ্যাক্টের গুরুত্ব কমবে না তো? ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ হলে পোস্ট ব্লক করার মাত্রা বাড়বে। প্রশাসনিক নিয়মের অপেক্ষা না করেই প্রত্যেকটি মন্ত্রক স্বাধীনভাবে ব্লক সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। আরো বেশি করে পরীক্ষা করা হবে পোস্টগুলি। কিন্তু এতে প্রশ্ন উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়ায় মত প্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব হবে না তো? সংশয় থাকছে এই বিষয়ে গুলো নিয়ে। এই পদক্ষেপ করার পরে বোঝা যাবে এর প্রতিক্রিয়া কী হয়।

