আমাদের ভারত, ১১ ফেব্রুয়ারি: জাতীয় গান বন্দে মাতরম গাওয়ার বিধি স্থির করে দিল কেন্দ্র সরকার। জাতীয় সঙ্গীত জন গণ মন-র মতো এবার থেকে সরকারি অনুষ্ঠানে পরিবেশন করতে হবে জাতীয় গান। বন্দেমাতরম পরিবেশনের সময়ও সকলকে উঠে দাঁড়াতে হবে। বুধবার এই নির্দেশিকা জারি করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। জাতীয় সঙ্গীতের মতো এক্ষেত্রেও সময় স্থির করে দেওয়া হয়েছে। বন্দেমাতরমের ছয়টি স্তবক ১৯০ সেকেন্ড অর্থাৎ ৩ মিনিট ১০ সেকেন্ডে পরিবেশন করতে হবে।
কখন বাধ্যতামূলকভাবে বন্দেমাতরম পরিবেশন করতে হবে তাও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, জাতীয় পতাকা উন্মোচনের পর, সরকারি অনুষ্ঠানে, রাষ্ট্রপতির আগমন ও প্রস্থানের সময়, জাতির উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতির ভাষণের আগে এবং পরে, সরকারি অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল এবং উপ- রাজ্যপালদের আগমন ও প্রস্থানের সময়, কোনো নাগরিক সম্মান ও পুরস্কার দেওয়ার সময়, কুচকায়াজে, জাতীয় পতাকা আনার সময় জাতীয় গান পরিবেশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশিত হয়। যে সরকারি কর্মসূচি গুলিতে জাতীয় গান পরিবেশনের কথা বলা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে বর্তমানে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের রীতি রয়েছে, এক্ষেত্রে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের আগে ওই অনুষ্ঠানগুলিতে জাতীয় গান পরিবেশন করা হবে বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। ওই সময় সকলকে অবশ্যই উঠে দাঁড়াতে হবে। জাতীয় গান পরিবেশনের সময় সকলকে কন্ঠ মেলানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত দেশাত্মবোধক গান বন্দে মাতরমে’র ১৫০ বছর পূর্তি উদযাপন চলছে। ১৮৭৫ সালে লেখা এই গান প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৮২ সালে আনন্দমঠ উপন্যাসে। ১৮৯৬ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রথম এই গান গেয়েছিলেন। ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে ওতোপ্রোতভাবে জুড়ে গিয়েছিল বন্দে মাতরম। জাতীয় সঙ্গীতের পাশাপাশি দেশের সংবিধান এই গানকে সমান মর্যাদা ও স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে এটি গাওয়ার জন্য আলাদা করে কোনো বিধি এতদিন নির্ধারিত ছিল না।
জাতীয় গানের মর্যাদা বৃদ্ধির পক্ষে বারবার সওয়াল করেছে বিজেপি। কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তারা এই গানের গুরুত্বপূর্ণ স্তবক বাতিলের অভিযোগ করেছে। জাতীয় গানের মর্যাদা বৃদ্ধির বিষয়ে গত জানুয়ারিতে দিল্লিতে বৈঠক হয় শাহ’র মন্ত্রকে। তাতে যোগ দিয়েছেন একাধিক বরিষ্ঠ আধিকারিক ও অন্যান্য মন্ত্রকের কর্তা ব্যক্তিরা। কেন্দ্র যে বন্দে মাতরম নিয়ে এই ধরণের পদক্ষেপ করতে পারে তার কানাঘুষা শোনা গিয়েছিল। বুধবার তার বাস্তবায়ণ হলো।
স্কুলগুলিতেও সকালে প্রার্থনা সঙ্গীতের সময় বা স্কুলের কোনো অনুষ্ঠানে জাতীয় গান সমবেত কন্ঠে গাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পড়ুয়াদের জাতীয় গান এবং জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া এবং জাতীয় পতাকার প্রতি তাদের শ্রদ্ধা বৃদ্ধি করার জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষগুলির প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা উচিত বলে জানানো হয়েছে নির্দেশিকায়। পাশাপাশি ঘোষিতভাবে সরকারি কর্মসূচি নয় এমন কোনো অনুষ্ঠানে যদি মন্ত্রীদের উপস্থিতির কারণে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয় সেখানেও জাতীয় গান পরিবেশন করা যাবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

