আমাদের ভারত, ২ জুন: দেশজুড়ে করোনার সংক্রমন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং টিকাকরণের চাপ সামলাতে এবার বিদেশি টিকা ‘ফাইজার’ ও ‘মডার্না’ আমদানি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। সম্ভবত জুলাই থেকে দেশে টিকাকরণে ফাইজারের টিকা ব্যবহার করা হবে বলে সূত্রের খবর।
ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অফ ইন্ডিয়া-র (ডিসিজিআই) প্রধান ভিজি সোমানি জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে দেশে প্রচুর পরিমান টিকার প্রয়োজন। তাই ট্রায়াল ছাড়াই এই টিকা গুলি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক।
নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশ সহ ‘হু’-ও এই টিকাগুলিকে ট্রায়ালের পর ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনুমতি দিয়েছে। তাই ভারতে আলাদা করে ট্রায়ালের প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছে ডিসিজিআই।
কোন টিকা ভারতীয়দের শরীরে কিভাবে কাজ করে এবং তার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া যাচাই করতেই ট্রায়ালের পর টিকা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে এক্ষেত্রে দুটি টিকাকেই ছাড় দেওয়া হয়েছে। তারই সঙ্গে টিকা ব্যবহারের ফলে কোনও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার সামনে এলে ক্ষতিপূরনের দায় থেকেও টিকা প্রস্তুতকারী দুই কোম্পানিকে রেহাই দেওয়া হবে বলে কেন্দ্রীয় সূত্রের খবর। যদি কোম্পানিগুলি ভারতে জরুরী ভিত্তিতে টিকাকরনের অনুমতি চায় তাহলে অন্যন্য দেশের মতো ভারতও তাদের ক্ষতিপূরণে ছাড় দেবে বলে, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক সূত্রে খবর।
ভারত সরকার চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই টিকাকরণের কাজ সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সেই মত, ফাইজার জুলাই থেকে অক্টোবরের মধ্যেই ৫ কোটি টিকার ডোজ দেওয়ার কথা জানালে কেন্দ্র সরকার ফাইজারকে অনুমতি দিতে রাজি হয় বলে জানিয়েছেন নীতি আয়োগ সদস্য ভি কে পল।
বর্তমানে গোটা দেশে টিকাকরণে সেরাম ইনস্টিটিউটের ‘কোভিসিল্ড’ এবং ভারত বায়োটেকের ‘কোভ্যাক্সিন’ ব্যবহার করা হচ্ছে। এর পর কেন্দ্র সরকার তৃতীয় টীকা হিসাবে টীকাকরণে রাশিয়ার ‘স্পুটনিক-ভি’ ব্যবহারের অনুমতি দেবে বলেও জানা গেছে।

