আমাদের ভারত, ২০ আগস্ট: সিবিআই শুক্রবার বোলপুর ভোলে ব্যোম নামে একটি চালকলে হানা দিতে যেখানে ৫ টি দামি গাড়ি দেখতে পায়। তার পরেই বীরভূমের এক ব্যবসায়ী দাবি করেন, অনুব্রত মণ্ডল তার নামে গাঁজার কেস দেওয়ার ভয় দেখিয়ে নগদ ৫ কোটি টাকা ও তিনটি গাড়ি হাতিয়ে নিয়েছে। এই ঘটনায় বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের দাবি, কেষ্টা বেটাই যে চোর সেটা এবার ভয় সরিয়ে বীরভূমের সাধারণ মানুষও বলতে শুরু করেছেন।
বিরোধীরা বরাবর দাবি করেছেন, অনুব্রত মণ্ডলের ভয়ে বীরভূমের মানুষ মুখ খুলতে পারে না। না চাইলেও ভুল কেস দেওয়ার ভয় দেখিয়ে জোর জুলুম চালানো হয়। কিন্তু সিবিআইয়ের হাতে অনুব্রত মণ্ডল গ্রেপ্তার হওয়ায় এবার বীরভূমের মানুষ মুখ খুলতে শুরু করেছেন। বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের দাবি, ওই জেলার মানুষ ভয় কাটিয়ে তৃণমূলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হচ্ছেন। তার আরও দাবি, সিবিআই সমস্ত সত্য টেনে বের করে আনবে। তিনি বলেন, “আমাদের অনুব্রত বাবু তো যুধিষ্ঠিরের ধর্ম ভাই। সব সত্যি কথা বলবেন। সিবিআই সব বের করে নেবে চিন্তার কিছু নেই। লক্ষ লক্ষ টাকার গাড়ি চালকল এবং সেই গাড়ি গুলি কিভাবে ব্যবহার করতেন সেই গাড়ির মালিক এখন বলে দিচ্ছেন। বীরভূমের মানুষ ভয় থেকে বেরিয়ে গেছে, মুখ ফুটে বলছে কেষ্টা বেটাই চোর।”
অনুব্রত মণ্ডলের তদন্তে অসহযোগিতা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন সিবিআইয়ের আধিকারিকরা। এই প্রসঙ্গে সুকান্ত মজুমদার বলেন, “চোর কখনো বলে, আমি চুরি করেছি। চোর তো ভালো কথাই বলবে।” সুকান্ত মজুমদারের দাবি, এখনো বিপুল সম্পত্তির খোঁজ মিলবে। এটা একটা লম্বা ওয়েব সিরিজের প্রথম দুটো এপিসোড। তাঁর কথায়, “প্রচুর এরকম প্রচুর সম্পত্তি পাওয়া যাবে। এখনো পর্যন্ত যেটা আপনারা দেখেছেন সেটা ওয়েব সিরিজের প্রথম বা দ্বিতীয় এপিসোড। এরকম অনেক অনেকগুলো এপিসোড হবে। অনুব্রত মণ্ডল অনেক বড় নেতার ওয়েব সিরিজ অনেক লম্বা।”
অনুব্রত মণ্ডলকে গরু পাচার মামলায় গ্রেপ্তারের পর থেকেই তৃণমূল নেতাদের তরফে দাবি করা হয়েছে এই পাচারের সাথে বিএসএফ জড়িত। এই অভিযোগের পাল্টা দিতে গিয়ে সুকান্ত মজুমদার বলেন, “গরু পাচারের ক্ষেত্রে ১৫ কিলোমিটার জায়গা শুধুমাত্র বিএসএফের আওতায় থাকে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অসহযোগিতার জন্য জমি না পাওয়ায় তার কাটার বেড়া দেওয়া সম্ভব হয়নি সীমান্তে। গরু বীরভূমের ইলামবাজারের হাট থেকে বর্ডার পর্যন্ত কিভাবে পৌঁছাচ্ছে? এই এলাকাটি রাজ্য সরকারের পুলিশের দেখার কথা। তারা টাকার ভাগ পায় বলে চুপ করে থাকে।”
তৃণমূলের বিরুদ্ধে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ করে বিরোধীরা। কিন্তু সুকান্ত মজুমদার বলেন, এই কাটমানির পরিমাণ যে কোটি টাকার উপর তা তাদের ধারণার অতীত ছিল। তার কথায়, “সাধারণ মানুষ ব্যবসায়ী তারা এবার আস্তে আস্তে মুখ খুলছেন। কাটমানি নেয় তৃণমূল সেটা আমরা জানতাম। কিন্তু সেই কাটমানির পরিমাণ যে কোটিতে সেটা জীবনে ভাবতে পারিনি। এটা আমাদেরও এক্সপেক্টেশনের বাইরে চলে গেছে। অনুব্রত মন্ডলের নামে কত হাজার কোটি টাকা পাবে, বেনামে কত হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি পাওয়া যাবে, এখন আমরা তাঁর কাউন্টডাউন করছি।”

