রাজ্যে ভোট পরবর্তী হিংসায় প্রথম খুনের মামলায় চার্জশিট জমা দিল সিবিআই

আশিস মণ্ডল, রামপুরহাট, ২ সেপ্টেম্বর: ভোট পরবর্তী হিংসায় বিজেপি কর্মী খুনে প্রথম চার্জশিট জমা দিল সিবিআই। নলহাটিতে বিজেপি কর্মী খুনে রামপুরহাট আদালতে চার্জশিট জমা দেয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারি সংস্থা। তবে ওই চার্জশিটে কি রয়েছে তা জানা যায়নি। এনিয়ে মুখ খুলতে চাননি সিবিআইয়ের কোনও আধিকারিক। তবে বিরোধীদের দাবি সরকারকে অপদস্ত করতে সিবিআই দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ১৪ মে পিটিয়ে খুন করা হয় মনোজ জয়শোয়াল (৪২) নামে এক ব্যবসায়ীকে। তাঁর বাড়ি কলকাতায় হলেও ব্যবসায়ী কারণে বীরভূমের নলহাটি পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের জগধারীপাড়া এলাকায় বাড়ি নির্মাণ করে থাকতেন। ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। তারপর আর ফেরেনি। দুপুরের দিকে নলহাটি – মুরারই রাস্তায় মধুরা গ্রাম যাওয়ার রাস্তায় ক্যানেলের ধারে দুষ্কৃতীরা তাকে পিটিয়ে মারে বলে অভিযোগ। একসময় তৃণমূলের সমস্ত অনুষ্ঠানে তাকে অগ্রভাগে দেখা গেলেও বিধানসভা নির্বাচনের কিছু দিন আগে তিনি বিজেপিতে যোগদান করেন। বিজেপি অভিযোগ ছিল রাজনৈতিক কারণেই মনোজকে খুন করা হয়েছে। ওই খুনের ঘটনায় পুলিশ ৭ জুন নলহাটির মোড়লপাড়ার বাসিন্দা মইনুদ্দিন শেখ ওরফে মাইনুকে গ্রেফতার করে। ১৭ জুন আত্মসমর্পণ করে নলহাটির শেখ পাড়ার বাসিন্দা আজিমুদ্দিন শেখকে। ২৮ আগস্ট আত্মসমর্পণ করে নলহাটির ছায়াপল্লির বাসিন্দা ইমরান শেখ। এছাড়াও পুলিশের খাতায় নলহাটির করিমপুরের ফারুক আলি ওরফে বাদল এবং পশ্চিম বিদু পাড়ার বাসিন্দা জাহিদি হাসান ওরফে ছোটোন ফেরার রয়েছে।

হাইকোর্টের নির্দেশে ভোট পরবর্তী হিংসার তদন্তে নেমে ওই ঘটনায় প্রথম ধৃত দু’জনের নামে খুনের মামলায় চার্জশিট জমা দিল সিবিআই। ইতিমধ্যে জামিনে মুক্ত রয়েছে আজিমুদ্দিন শেখ। ওই মামলার সরকারি আইনজীবী মহম্মদ বাসির বলেন, “এদিন ধৃত মইনুদ্দিন শেখের জামিনের আবেদন করা হয়েছিল। আমি সেই আবেদনে আপত্তি জানিয়েছি। এদিন সিবিআই তদন্ত করে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দিয়েছে। বাকি দুজন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত চালিয়ে যাবে। মোট ৩৮০ পাতার একটি চার্জশিট জমা দিয়েছে। এবার থেকে মামলা সিবিআই দেখবে। তবে আমার মনে হয়েছে এই খুনের ঘটনায় কোন রাজনৈতিক যোগ নেই”।

মামলার অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমারা মইনুদ্দিন শেখের জন্য জামিনের আবেদন করেছিলাম। কিন্তু সিবিআই আইনজীবী আপত্তি করায় জামিন হয়নি। তবে দুঃখের বিষয় এই মামলায় ৭২ দিন জেলে থাকার পর জামিনে মুক্ত আজিমুদ্দিন শেখের বিরুদ্ধে কোন চার্জশিট দেয়নি সিবিআই। তাদের আইনজীবী আদালতে দাঁড়িয়ে জানিয়েছেন এই মুহূর্তে তাঁর বিরুদ্ধে খুনের কোন যোগ পাওয়া যায়নি”।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *