আমাদের ভারত, ১৯ আগস্ট: রাজ্যে ভোট পরবর্তী সময়ে খুন, ধর্ষণ এবং অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। এছাড়াও অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় তিন সদস্যের সিট গঠনের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। সিবিআই ও সিট উভয়কেই আগামী ৬ সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, হিংসার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রাজ্য সরকারকে। একইসঙ্গে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের রিপোর্টে যে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ করা হয়েছিল রাজ্যের তরফে, তা সঠিক নয় বলেও জানিয়েছে হাইকোর্ট।
হাইকোর্টের নির্দেশে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে রিপোর্ট তৈরি করে তা আদালতে জমা দিয়েছিল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। সেই কাজ করতে গিয়ে কমিশনের সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। এই বিষয়ে শুনানির সময় রাজ্য সরকারকে ভর্ৎসনা করে হাইকোর্ট।
এদিকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের রিপোর্টে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলে রাজ্য। সেই আবেদন সঠিক নয় বলে আজ জানিয়ে দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে আদালত সমস্ত অভিযোগের তথ্য খতিয়ে দেখছে বলেও জানিয়েছে।
গত ৩ আগস্ট এই মামলার শুনানি শেষ হয়েছিল হাইকোর্টে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দালের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের ডিভিশন বেঞ্চে। আজ এই মামলার জন্য নতুন ডিভিশন বেঞ্চ গঠন করছে আদালত। নতুন বেঞ্চেই এই মামলা সংক্রান্ত পরবর্তী প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে।
সিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি,
ভাঙ্গচুর করা, আগুন লাগানো, মারধর করা, ঘরছাড়া করার মত অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় সিট গঠনের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আইপিএস আধিকারিক সুমন সাহু, সোমেন মিত্র ও রণবীর কুমারের নেতৃত্বে সিট গঠিত হবে। সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নজরদারিতে কাজ করবে সিট। সিটকেও তার রিপোর্ট ৬ সপ্তাহের মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
এছাড়াও হিংসার ঘটনায় যারা যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রাজ্য সরকারকে। রাজ্যের দুই মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ও পার্থ ভৌমিক এই মামলায় যুক্ত হতে চাইলেও তাদের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আদালত।
এই মামলায় প্রথম থেকেই পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। হাইকোর্টের বিচারপতি জানিয়েছেন, এটা কোনও মামুলি হিংসার ঘটনা নয়। খুন ধর্ষণের মতো ঘটনার অভিযোগ রয়েছে, তাই অভিযোগের গুরুত্ব বুঝে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিল হাইকোর্ট। মানবাধিকার কমিশনের রিপোর্টে ভোট পরবর্তী হিংসা ঘটনা নিয়ে ৩৩৫৪টি অভিযোগ এসেছে। সেখানে দাঁড়িয়ে পুলিশ মাত্র ৬৫১ টি অভিযোগ দায়ের করেছে। তবে ভোট-পরবর্তী হিংসার মামলা অন্য রাজ্যে স্থানান্তরিত করা যাবে না বলেও জানিয়েছে উচ্চ আদালত।

