আমাদের ভারত, ২৩ মার্চ:তৃণমূলের উপপ্রধান খুনের পর একের পর এক বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের। আর সেই ঘটনা পর থেকেই থমথমে বীরভূমের রামপুরহাট বগটুই গ্রাম। এই ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা গ্রহণ করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। আজ দুপুরেই শুরু হবে শুনানি।
বুধবার হাইকোর্ট কাজ শুরু করার পরেই রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সৌমেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় এবং সরকারী কৌশুলিকে এজলাসে ডেকে পাঠান প্রধান বিচারপতি। রামপুরহাট কাণ্ডে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা গ্রহণের কথা জানান তিনি। বুধবার দুপুর দুটোয় প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে এই সংক্রান্ত সব মামলার শুনানি হবে। প্রধান বিচারপতি বলেন, এই ধরনের ঘটনা জঘন্য অপরাধ। অবিলম্বে এর তদন্ত শুরু হওয়া দরকার। দশটি বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হল। ঘরের ভিতরে আটকে মানুষকে পুড়িয়ে মারা হলো। এই ধরনের ঘটনার পেছনে যারা আছে তাদের চিহ্নিত করে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া দরকার।
গতকাল দুপুরে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিশেষ জরুরি বৈঠক ডেকে একটি তদন্তকারী দল গঠন করেছেন। সেই দলই তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনাস্থলে ফরেনসিক বিভাগের আধিকারিকরাও গেছেন। এখনো পর্যন্ত ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার মধ্যে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ভাদু শেখ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে আর ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে অগ্নিসংযোগের ঘটনায়।
পুরো বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করেছে কেন্দ্রীয় সরকারও। ৭২ ঘন্টার মধ্যে এই ঘটনার রিপোর্ট তলব করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আগামীকাল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের একটি প্রতিনিধি দল আসছে ঘটনার তদন্তে। মুখ্যমন্ত্রী তথা রাজ্যের পুলিশ মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সরব হয়েছে বিজেপির রাজ্য সভাপতি। সুকান্ত মজুমদার বলেন,” আমরা মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশ মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবী করছি। এটা রাজ্য সরকার চলছে না সার্কাস চলছে? এত বড় একটা অঘটন ঘটে গেল, কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ১০জন পশ্চিমবঙ্গ বাসীর জীবন চলে গেল, আর পুলিশের কাছে কোন ইনপুট নেই? পুলিশ করছেটা কি?”

