অশোক সেনগুপ্ত
আমাদের ভারত, ৪ মে: রাজ্যব্যাপী পুরনো বানিজ্যিক গাড়ি বন্ধ করার আগে সংশ্লিষ্ট পরিকাঠামো ঢেলে সাজানোর দাবি করল বাস মালিকদের সংগঠন। তাদের দাবি, পূর্ব অভিজ্ঞতা ও পরিবহণের বর্তমান করুণ অবস্থান দেখে সরকার সিদ্ধান্ত নিক।
জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেটসের সম্পাদক তপন ব্যানার্জি বুধবার এই দাবি করে এই প্রতিবেদককে বলেন, “২০০৯ সালের ১ লা আগষ্ট কলকাতা উচ্চ আদালত কেএমএ এলাকায় কোনও ১৫ বছরের বানিজ্যিক গাড়ি চলতে পারবে না বলে নির্দেশ দিয়েছিল। তখন থেকেই প্রতিদিন বয়সের ভিত্তিতে বানিজ্যিক গাড়ি বাতিল হতে শুরু করে। এ ব্যাপারে আমরা সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত মামলা করি। মামলা সুপ্রিম কোর্ট থেকে কলকাতা হাইকোর্টে ফেরত আসে। কিন্তু ২০০৯এর ১ আগস্ট থেকে আর ১৫ বছরের উর্ধ্বে মহানগরীতে চলছে না।
২০০৯ সালে যখন একই দিনে কলকাতার পুরনো বানিজ্যিক গাড়ি ফাঁকা হয়, তখন কোনও পরিকল্পনা ও পরিকাঠামো ছিলনা। অনেক বাসমালিক হারিয়ে গিয়েছিলেন, অনেক শ্রমিক একদিনে কর্মচ্যুত হন। মানুষ বাসের জন্য রাস্তায় ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করেছে এই অভিজ্ঞতা এই শহরের আছে।
ডিজেলকে তো বিশ্বে গ্রিন ফুয়েল বলা হয়। সিএনজি এবং ইলেকট্রিক বাসের কথা বলা হচ্ছে। এ ব্যাপারে আমাদের প্রশ্ন—
১) তার পরিকাঠামো কোথায়?
২) কত বছর এই গাড়ীর বয়সসীমা?
৩) বাতিল গাড়ীর পরিবর্তে যারা এই বাস নেবে সে ব্যাপারে ব্যাঙ্কঋণ কী ভাবে হবে? ৪) এই বাস ভাড়াতে ঋণের টাকা কী ভাবে পরিশোধ হবে?
৫) যাদের বয়স এই মুহূর্তে ৬০ বছরের উর্দ্ধে, তারা তো ঋণ পাবেননা?
৬) ব্যাঙ্কের ব্যপারে রাজ্য সরকার কতটুকু সাহায্য করতে পারবে?
আমরা রাজ্য সরকারের কাছে সার্বিক একটি রূপরেখা চাইছি। সিএনজি দিল্লিতে যখন প্রথম আসে তার অভিজ্ঞতা মানুষ জানে। দূষণ নিয়ন্ত্রণকে সামনে রেখে এই সিদ্ধান্ত না নিয়ে, বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা ও পরিকঠামোর মাধ্যমে দুষন মুক্ত সমাজ গঠন করা যায়। আমরাও দুষন মুক্ত সমাজ চাই। আশা করব বিচারব্যবস্থা ও সরকার সার্বিক বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবে।“

