ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত গাইঘাটা থেকে প্রায় আড়াই কোটি টাকার সোনার বিস্কুট উদ্ধার করল বিএসএফ

সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ১৭ মার্চ: প্রায় আড়াই কোটি টাকার সোনা উদ্ধার হল ভারত-বাংলাদেশ গাইঘাটা থানার ঝাউডাঙা ডোবাপাড়া সীমান্ত-সংলগ্ন এলাকা থেকে। বিএসএফের গোয়েন্দা শাখার দেওয়া খবরের ভিত্তিতে ১৫৮ নম্বর ব্যাটালিয়নের ডোবাপাড়া ক্যাম্পের জওয়ানরা বৃহস্পতিবার সকালে অভিযান চালায়। উদ্ধার হয় ৪০টি সোনার বিস্কুট, যার ওজন প্রায় ছয় কেজি। বাজার দর প্রায় ২ কোটি ৪২ লক্ষ ৩৬ হাজার ৮৫৬ টাকা। সোনার বিস্কুট উদ্ধার হলেও এই ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি বিএসএফ জওয়ানরা।

বিএসএফ কর্তারা জানিয়েছেন, এ দিন সকাল সাড়ে ৮ টা নাগাদ খবর আসে, বাংলাদেশ থেকে সোনার বিস্কুট ঢুকবে এ দেশে। সেই মতো জওয়ানরা ওত পেতে ছিলেন। পৌনে ১০টা নাগাদ তাঁরা দেখতে পান, স্থানীয় ডোবাপাড়া এলাকার বাঁশ বাগানের মধ্যে দিয়ে এক যুবক কোমরে গামছা বাঁধা অবস্থায় আসছে। জওয়ানরা পিছু নিতেই সে গামছার টোপলা ফেলে খেতের মধ্যে ঢুকে পড়ে। জওয়ানরা তাড়া করলে পাশের একটি খালে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে যায়। গামছার টোপলার মধ্যেই বিস্কুটগুলি ছিল। ওই পাচারকারীর সন্ধানে তল্লাশি শুরু করেছে বিএসএফ।

পুলিশের একাংশের অনুমান, গরু পাচার বন্ধ হওয়ায় ভারত-বাংলাদেশের পাচারকারীরা সোনার কারবার করছে। এছাড়া বড় অঙ্কের নগদ টাকা আনা-নেওয়ায় ধরপাকড়ের আশঙ্কা বেশি থাকে। সে জন্যই ইদানীং টাকার বদলে বিস্কুটের মাধ্যমে কারবার চলছে। ছোট ছোট বিস্কুট আনা অনেক সহজ। ধরা পড়ার আশঙ্কাও কম। বিএসএফের ১৫৮ নম্বর ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডেন্ট বলেন, এ দিন উদ্ধার হওয়া সোনার বিস্কুট শুল্ক দফতরের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।”

ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকা দিয়ে সোনার বিস্কুট পাচার হওয়াটা নতুন কোনও ঘটনা নয়। সাম্প্রতিক সময়ে বিএসএফ ও শুল্ক দফতরের হাতে বাংলাদেশ থেকে বিস্কুট আনার সময় বেশ কিছু পাচারকারী ধরা পড়েছে। সীমান্ত বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত কয়েক জনকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। কখনও সাইকেলের টায়ারের মধ্যে করে, কখনও বা পায়ু ছিদ্রের মধ্যে করেও বিস্কুট পাচারের চেষ্টা হয়েছে। পাচারকারীদের কাছে পেট্রাপোল সহ আশপাশের সীমান্ত কার্যত নিরাপদ করিডর পরিণত হয়েছে। দুবাই থেকে ঢাকা হয়ে বিস্কুট এ দেশে ঢুকছে বলে জানতে পেরেছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। বনগাঁ থেকে বিস্কুট কলকাতার বড়বাজার-সহ নানা এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *