‘বিএসএফ কোনও তদন্তকারী সংস্থা নয়’, সাংবাদিক বৈঠক করে জানালেন এডিজি

রাজেন রায়, কলকাতা, ১৭ নভেম্বর: বিএসএফের এক্তিয়ার বৃদ্ধি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব। কিন্তু এই নিয়ে উত্তাল হয়েছিল মঙ্গলবারের বিধানসভা। বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছিলেন তৃণমূলের বিধায়ক উদয়ন গুহ। এ বার সাংবাদিক বৈঠক করে নিজেদের ক্ষমতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দিল বিএফএফ।

সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ক্ষমতা সম্পর্কে এডিজি ওয়াই বি খুরানিয়া  বলেন, “বিএসএফের প্রধান কাজ হল অনুপ্রবেশ রোখা। বিএসএফ কোনও তদন্তকারী সংস্থা নয়, তাই পুলিশের কাজে হস্তক্ষেপ করার প্রসঙ্গই ওঠে না। রাজ্য পুলিশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেই চলে বিএসএফ।”

গত ২১ অক্টোবর, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে নির্দেশিকা জারি করে সীমান্ত লাগোয়া একাধিক রাজ্যে বিএসএফের এক্তিয়ার ১৫ কিমি থেকে বাড়িয়ে ৫০ কিমি করা হয়। এরপরই বিতর্ক শুরু হয়। পঞ্জাবের পর পশ্চিমবঙ্গেও শাসক দল দাবি করে, বিএসএফের এক্তিয়ার বৃদ্ধির ফলে এবার রাজ্যে পুলিশ প্রশাসনের কাজে হস্তক্ষেপ করবে। কেন্দ্রীয় সরকার বিএসএফের এলাকাবৃদ্ধির যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা আদতে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর ওপরে আঘাত, এই মর্মেই সরকারি প্রস্তাব আনা হয় মঙ্গলবার। প্রস্তাবের পক্ষে ভোট পড়ে ১১২টি ও বিপক্ষে ভোট পড়ে ৬৩টি।

বিএসএফের তরফে এডিজি ওয়াই বি খুুরানিয়া সাংবাদিক বৈঠক করে বলেন, “দেশের প্রতিরক্ষায় প্রথম সারিতে রয়েছে বিএসএফ। এর অন্যতম কাজ হল বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সীমান্তে নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বজায় রাখা। বিএসএফের ক্ষমতা সীমীত। কেবলমাত্র তল্লাশি, বাজেয়াপ্ত ও গ্রেফতার করতে পারে বিএসএফ। এটি কোনও তদন্তকারী দল নয়। সীমান্তে তল্লাশি অভিযান চালিয়ে যাদের আটক বা গ্রেফতার করা হয়, তাদের সংশ্লিষ্ট বিচারবিভাগীয় সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হয়।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *