শিলিগুড়িতে বাম শিবিরে ভাঙন, প্রাক্তন দুই বাম কাউন্সিলারের দলত্যাগ

আমাদের ভারত, শিলিগুড়ি, ২১ সেপ্টেম্বর:
শিলিগুড়ি পুরনিগমের নির্বাচনের আগেই বামেদের ঘর ভাঙ্গা শুরু করল তৃণমূল। মঙ্গলবার শিলিগুড়ির পৌরনিগমের প্রাক্তন দুই কাউন্সিলর দল ত্যাগ করে যোগ দিল তৃণমূলে। একই সাথে বিজেপি সহ অন্যান্য দল থেকে আরও বেশ কয়েকজন এদিন যোগ দেয় তৃণমূলে। সব মিলিয়ে পুর নির্বাচনকে পাখির চোখ করে নিজেদের পেশি শক্তিকে আরও বাড়াতে চাইছে রাজ্যের শাসক দল।

একুশের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতা দখল করলেও দার্জিলিং জেলা ধরাশায়ী ছিল শাসক দলের কাছে। তাই সামনে যত পৌরসভা এবং মহাকুমা পরিষদ নির্বাচন রয়েছে তাই এই দুই নির্বাচনকে পাখির চোখ করে বিরোধী শিবিরের ঘর ভাঙা শুরু করেছে তৃণমূল। সম্প্রতি কিছুদিন আগেও বামেদের প্রাক্তন মেয়র পারিষদ এবং বেশ কয়েকজন কাউন্সিলার তৃণমূলে যোগ দিয়েছিল।

তবে আবারও শিলিগুড়িতে বাম শিবিরে বড় ধাক্কা। মঙ্গলবার শিলিগুড়ি পৌরনিগমের বিগত বোর্ডের দুই বাম কাউন্সিলর দল ত্যাগ করে যোগ দিল তৃণমূলে। এই দুই কাউন্সিলর হলেন ২৮ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শর্মিলা দাস এবং ৩২ নং ওয়ার্ডের প্রাক্তন বাম কাউন্সিলার তাপস চ্যাটার্জি। এদিন শুধু এই দুই কাউন্সিলারই নয় এছাড়াও বিজেপি থেকে আরও বেশ কয়েকজন তৃণমূলে যোগদান করেন। যোগদানকারীদের মধ্যে ছিলেন তৃণমূলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য দীপক শীল। দলে যোগদানকারীদের এদিন দলীয় পতাকা তুলে দিলেন তৃণমূলের জেলা সভানেত্রী পাপিয়া ঘোষ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শিলিগুড়ি পুরনিগমের প্রশাসক বোর্ডের চেয়ারম্যান গৌতম দেব, জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান অলক চক্রবর্তী সহ অন্যান্য তৃণমূল নেতৃত্বরা।

এদিন সংবাদমাধ্যমের কাছে গৌতম দেব বলেন, অনেকেই দলে আসার জন্য যোগাযোগ করেছে। তার একটি তালিকা আমরা রাজ্য নেতৃত্বের কাছে পাঠাচ্ছি। সেখান থেকে যখন নির্দেশ আসবে সেইমত দলে যোগদান করানো হবে।

অন্যদিকে তৃণমূলের জেলা সভানেত্রী পাপিয়া ঘোষ বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়ন দেখে আমাদের দলে অনেকেই যোগ দিতে চাইছে। তবে দলে যোগ দিয়ে কেউ যদি দলকে ব্যবহার করতে চায় তবে কাউকে রেয়াত করা হবে না।

অপরদিকে তৃণমূলে যোগ দিয়ে প্রাক্তন বাম কাউন্সিলার শর্মিলা দাস বলেন, সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে যেভাবে তৃণমূল লড়াই করছে সেই লড়াইয়ে শামিল হতেই তৃণমূলে যোগদান। কাউন্সিলার তাপস চ্যাটার্জি বলেন, মানুষ বামেদের প্রত্যাখ্যান করেছে তাই ওই দলে থেকে আর লাভ নেই। আগামী দিনে দলের কর্মী হিসেবে মুখ্যমন্ত্রীর দেখানো পথেই এগিয়ে যাবো।

অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে সিপিএমের জেলা সম্পাদক জীবেশ সরকার বলেন, যারা গিয়েছে তারা যাওয়াতে দলের কোনও ক্ষতি হবে না। আমরা ওদের দল থেকে ইতিমধ্যেই বহিষ্কার করেছি। শিলিগুড়ি পুরনিগম নির্বাচনে আমাদেরই জয় নিশ্চিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *