আশিস মণ্ডল, রামপুরহাট, ২৬ আগস্ট: মোবাইলে সামান্য কথা কাটাকাটিতেই আত্মহত্যা করেছে প্রেমিকা। এই শোক মেনে নিতে পারেনি প্রেমিক। তাদের প্রেম যে কতটা গভীর ছিল প্রেমিকার বাড়িতে গিয়ে নিজেও আত্মহত্যা করে তার প্রমান দিল প্রেমিক। এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে বীরভূমের দুই পরিবারে।
মৃত প্রেমিকার নাম লিজা ফুলমালি (১৬), প্রেমিক সমর ফুলমালি (২০)। লিজার বাড়ি নলহাটি থানার নোয়াপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের কুমারসান্ডা গ্রামে। সমর মুরারই থানার পলসা গ্রাম পঞ্চায়েতের ইসলামপুর গ্রামের বাসিন্দা। লিজার মামার বাড়ি ইসলামপুর গ্রামে। সেই সূত্রে যাতায়াত থেকে তাদের প্রেমালাপ। দুটি পরিবারই দিনমজুরি করে সংসার চালায়। দীর্ঘদিন ধরেই তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। দুটি পরিবারই তাদের ভালোবাসাকে স্বীকৃতি দিয়ে বিয়ের প্রস্তাবে রাজি হয়েছিল। কিন্তু বাধ সেধেছিল প্রেমিকার বয়স। পরিবারের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল মেয়ের বয়স ১৮ বছর হলেই আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে দেবে দুই পরিবার।
এরই মধ্যে একদিন মোবাইলে ঝগড়া বাধে দুজনের মধ্যে। এরপরেই চলতি বছরের ১৯ আগস্ট বেলার দিকে বাড়িতেই গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করে লিজা। সেই শোক সহ্য করতে পারেনি সমর। তাই বুধবার দুপুরে লিজার বাড়ির সামনে গিয়ে কীটনাশক খেয়ে আতহত্যার চেষ্টা করে সে। লিজার পরিবারের লোকজন তাকে অসুস্থ অবস্থায় প্রথমে লোহাপুর ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করে। সেখান থেকে তাকে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে রাতের দিকে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
লিজার বাবা গৌতম ফুলমালি বলেন, “দুজনের মধ্যে সম্পর্ক আমরা মেনে নিয়েছিলাম। কিছু দিন আগে মোবাইলে ওদের মধ্যে ঝগড়া হয়। ১৯ আগস্ট আমরা সকলে দিনমজুরির কাজে বেরিয়ে গিয়েছিলাম। বাড়িতে ছিল আরও দুই ছেলেমেয়ে। তাদের কাছ থেকে লিজার গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যার খবর পাই। বুধবার আবার ছেলেটা অসুস্থ অবস্থায় আমাদের বাড়ি চলে আসে। সঙ্গে সঙ্গে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করি। কিন্তু বাঁচানো গেল না। ওদের ভালোবাসা অমর হয়ে থাকল।”
সমরের নিকট আত্মীয় রাজু ফুলমালি বলেন, “যে দিন লিজা আত্মহত্যা করে সেদিন সমর মুর্শিদাবাদের বাড়ালা গ্রামে মামার বাড়িতে ছিল। লিজার মৃত্যুর খবর পেয়ে আমরাও বাড়ালা গ্রামে চলে যাই। সেদিন আমরা সমরকে ঘর থেকে বের হতে দিইনি। যদি মেয়ের পরিবার কিংবা গ্রামবাসীরা মারধর করে এই আশঙ্কায়। বুধবার সকালে সমর বাড়ি ফেরার নাম করে মামার বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। তারপরেই লিজার বাড়ির কাছে গিয়ে কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যা করে।”

