আমাদের ভারত, কলকাতা, ৩ মার্চ: “পৃথিবীতে আছে যত নগরাদি গ্রাম, সর্বত্র প্রচার হোক আর্য়ুবেদ নাম।” স্বামী আনন্দানন্দ পুরীর এই মূল মন্ত্র নিয়ে আর্য়ুবেদের প্রচার ও প্রসারের উদ্দেশ্যে কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলার প্রাঙ্গনে শুদ্ধ আর্য়ুবেদের একমাত্র স্টলে (২৬০) আর্য়ুবেদ চিকিৎসা সংক্রান্ত বই, ম্যাগাজিন ও জার্নালের সম্ভার রয়েছে।
এছাড়াও ‘আয়ুরমৈত্রী’ ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্টেট মেডিসিনাল প্লান্ট বোর্ডের সহযোগিতায় এবং জে বি রয় স্টেট আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হসপিটাল এর ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্যোগে বিনামূল্যে ভেষজ উদ্ভিদ ও লিফলেট বিতরণ অনুষ্ঠান ‘সবুজের অভিযান’ অনুষ্ঠিত হবে।
ওই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা হলেন, শ্যামাদাস আয়ুর্বেদিক বৈদ্য শাস্ত্রপীঠ, বিশ্বনাথ আয়ুর্বেদ মহাবিদ্যালয়, রাজীব গান্ধী আয়ুর্বেদিক মেডিক্যাল কলেজ ও রঘুনাথ আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজের ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকবৃন্দ। সার্বিক পৃষ্ঠপোষকতায় রয়েছেন শ্রদ্ধেয় গুরুজী স্বামী আনন্দানন্দপুরী, পূর্বনাম কবিরাজ শ্রীনিকেতন চক্রবর্তী।
চিকিৎসক সত্যব্রত প্রামান্য জানান, আমাদের দেশ ভারতবর্ষ বহন করে চলেছে এক সুপ্রাচীন সভ্যতাকে, যার মধ্যে রয়েছে দর্শন, শিল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সঙ্গীত ইত্যাদি। আয়ুর্বেদ – স্বাস্থ্য রক্ষণ ও সংস্কৃতির ধারক ও বাহক হিসাবে হাজার হাজার বছর ধরে পরিগণিত হয়েছে। আয়ুর্বেদের মাধ্যমে বৈদিকযুগ, মধ্যযুগ তথা আধুনিক যুগের ভারতবর্ষ সারা পৃথিবীকে দেখিয়েছে চিকিৎসা বিজ্ঞানের নানা উৎকর্ষতা।
স্বামী আনন্দানন্দপুরীর মতে, প্রকৃতি মায়ের দান উদ্ভিদ, খনিজ তথা নানা জৈবিক উপাদানকে কাজে লাগিয়ে আয়ুর্বেদ প্রাকৃতিকভাবে সুস্থের স্বাস্থ্যরক্ষা ও আতুরের চিকিৎসায় নিরন্তর কার্যকরী হয়েছে। বর্তমানে নানা রোগে যখন মানবসভ্যতা এক চ্যালেঞ্জের মুখে, তখন ভারতীয় চিকিৎসা পদ্ধতি আয়ুর্বেদ সমগ্র বিশ্বকে তার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করাচ্ছে এবং দেখাচ্ছে এক নতুন দিশা, কারণ আয়ুর্বেদ শুধু বাঁচায় না বাঁচতে শেখায়।

প্রাত্যইিক জীবনশৈলীর পরিবর্তন, খাদ্যাভাস, সদাচার ও যোগাসন ইত্যাদির মাধ্যমে কীভাবে করোনার মতো অতিমারি সংক্রামক ব্যাধি এবং মধুমেহ, রক্তচাপ, বাতব্যাধি ও অন্যান্য দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে মুক্ত থাকা যায়-তার সম্যক উপায় দেখাচ্ছে। আপনার পারিপার্শ্বিক যে সমস্ত গাছ-গাছড়া (ভেষজ) রয়েছে; রান্নাঘরে যে সকল মসলাপাতি রয়েছে, সেগুলিও আপনার রোগ মুক্তির সহায়ক হতে পারে৷
চিকিৎসক সুমিত সুরের কথায়, আমরা যারা আয়ুর্বেদ-প্রেমী, তথা চিকিৎসক-তারা আন্তরিকভাবে চাই মানুষকে আয়ুর্বেদ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রাকৃতিক উপায়ে রোগমুক্ত রাখতে৷ সারা ভারতবর্ষে এনসিআইএসএম-এর পরিচালনায় সহস্রাধিক আয়ুৰ্বেদ কলেজ নিরন্তর নতুন প্রজন্মের আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক তৈরী করে চলেছে৷ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও ফার্মেসি প্রতিষ্ঠানগুলিতে চিকিৎসক ও চিকিৎসা-সহযোগী তৈরীর প্রক্রিয়া জারি রয়েছে৷ সারা পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে সরকারী ব্যবস্থাপনায় তিন শতাধিক আয়ুর্বেদিক চিকিৎসাকেন্দ্র নিরন্তর কাজ করে চলেছে৷ মানবতার জয়গান সবাই গাইব, কিন্তু সুস্থ ও স্বাভাবিক মানবসভ্যতাকে অগ্রাধিকার দিতে গেলে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা-পদ্ধতিকে শ্রদ্ধার সাথে ব্যবহার করা অবশ্যক, জয়তু ভারত।

