রায়গঞ্জে রাস্তার ধার থেকে টোটো চালকের দেহ উদ্ধার, টোটো ছিনাই করে প্রাণ কেড়েছে দুষ্কৃতিরা!

স্বরূপ দত্ত, আমাদের ভারত, উত্তর দিনাজপুর, ৩১ ডিসেম্বর: রাস্তার ধারের একটি বাঁশ বাগানের পাশ থেকে এক টোটো চালকের মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ালো বুধবার। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ থানার বরুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের আটকড়া গ্রামে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত টোটো চালকের নাম হারাধন কর। তার বাড়ি রায়গঞ্জ পুর এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মিলনপাড়া এলাকায়। পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রাথমিক অনুমান টোটো ছিনতাই করে ওই ব্যক্তিকে খুন করেছে দুষ্কৃতীরা। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

দিন কয়েক আগেই রায়গঞ্জ শহরের অদূরে অবস্থিত রূপাহার এলাকার এক টোটোচালককে মাদক খাইয়ে বেহুঁশ করে টোটো সহ সর্বস্ব নিয়ে চম্পট দেয় দুষ্কৃতিরা। সাম্প্রতিককালে উত্তর দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন প্রান্তে টোটো ছিনতাইয়ের ঘটনা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। এই ব্যাপারে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে সাধারণ মানুষের মনে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এদিন সকালে এলাকায় বাঁশ বাগানের পাশের একটি সরষে ক্ষেতের মধ্যে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় ওই ব্যক্তিকে। ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৫০ মিটার দূরত্বে উদ্ধার হয় ঐ ব্যক্তির চশমা, জুতো, চাদর ও টুপি। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রাথমিক অবস্থায় ওই ব্যক্তিকে চিহ্নিত পারেনি। তবে তাদের দাবি, শ্বাসরোধ করেই খুন করা হয়েছে তাকে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় রায়গঞ্জ থানার পুলিশ। দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয় রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। রায়গঞ্জের মিলনপাড়া এলাকার বাসিন্দা তথা রায়গঞ্জ পুর এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর আরতি মন্ডল বলেন, অত্যন্ত নিরীহ মানুষ ছিলেন হারাধন বাবু। পরিবার সূত্রে জানতে পেরেছি, বুধবার ভোরে তিনি টোটো নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। টোটো ছিনতাইকারীরাই সম্ভবত এই কান্ড ঘটিয়েছে।

অপরদিকে ঘটনাস্থলটি রায়গঞ্জ, কালিয়াগঞ্জ ও হেমতাবাদ এই তিন থানার সংযোগস্থলে হওয়ার দরুন রাতে ওই এলাকায় পুলিশি টহলদারী কম থাকায় চলাফেরায় ওই এলাকা নিরাপদ নয় নয় বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি। সন্ধে পেরিয়ে যেতে ওই রাস্তায় অপরাধমূলক ঘটনা ঘটার আশঙ্কায় সাধারণ মানুষ চলাফেরা করতে ভয় পান। যার কারণে সেখানে একটি পুলিশ ক্যাম্পের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা৷

এই ঘটনায় রায়গঞ্জ পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার মহঃ সানা আখতার বলেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই একজন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। খুব শীঘ্রই মূল অপরাধীরা ধরা পড়বে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *