চার দিন ধরে জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল থেকে নিখোঁজ থাকা রোগীর দেহ উদ্ধার হল তিস্তার চর থেকে

আমাদের ভারত, জলপাইগুড়ি, ২২ মার্চ: গত চার দিন ধরে জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল থেকে নিখোঁজ থাকা রোগীর রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার হলো। মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে তিস্তা নদির চর থেকে। এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পরার পাশাপাশি হাসপাতালের স্বাস্থ্য কর্মী এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের গাফিলতির বিষয়টি আরো একবার উঠে এলো। যদিও হাসপাতালের পক্ষে থেকে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের দুই জন নার্স, ওয়ার্ড বয় এবং নিরাপত্তা কর্মী সহ মোট ৬ জনকে শোকজ করা হয়েছে।

এদিকে হাসপাতাল থেকে কিভাবে ওই রোগী বেড়িয়ে গেলো? কেনই বা হাসপাতাল থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে তিস্তার চরে তার মৃতদেহ উদ্ধার হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে ওই রোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে। শুধু তাই নয়, এই ঘটনা আত্মহত্যা নাকি খুন তা নিয়ে ধন্দে রয়েছে পরিবার।

জানাগেছে, গত ১৭ মার্চ, বানারহাট ব্লকের নিউ ডুয়ার্সের বাসিন্দা বিরবল গোর (৫২) কে উচ্চ রক্তচাপ জনিত কারণে জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করে তার পরিবার। ভর্তি করার পরে এক জন পরিবারের সদস্য বিরবল বাবুর সাথেই ছিলো। কিন্তু ১৮ তারিখ একটি টেস্টের রিপোর্ট নেবার জন্য ওই পারিবারিক সদস্য ওয়ার্ড থেকে বাইরে গিয়েছিলেন। কিন্তু ফিরে আসার পরে ওই সদস্য আর বিরবল বাবুকে ওয়ার্ডে পাননি। এই ঘটনা জানাজানি হতেই পরিবারের পক্ষ থেকে জলপাইগুড়ির কোতয়ালি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়৷ অভিযোগ দায়ের করার পরেই শুরু হয় বিরবল গোরের খোঁজ। এর পরেই মঙ্গলবার রাতে পুলিশ টাউন ক্লাব সংলগ্ন তিস্তা নদির মাঝের চর থেকে একটি মৃত দেহ উদ্ধার করে। বিষয়টি পুলিশের পক্ষ থেকে বিরবল গোরের ছেলে কিরণ গোরকে ফোন করে জানানো হয়। আজ সকালে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালের মর্গে এসে বিরবল গোরের মৃতদেহ সনাক্ত করে।

বিরবল গোরের ছেলে কিরণ গোর বলেন, হাসপাতালে এতো কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকার পরেও কি করে ভর্তি থাকা একজন রোগী নিখোঁজ হয়ে গেলো। আবার মৃতদেহ উদ্ধার হল হাসপাতাল থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে নদীর চর থেকে। পুরো ঘটনায় হাসপাতালের কর্মীদের গাফিলতি আছে বলেই মনে করছেন তিনি। তবে পুলিশের তদন্ত দেখে তার পর পরিবারের পক্ষ থেকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করার চিন্তাভাবনা করা হবে বলে জানান তিনি৷

এদিকে জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজের সহকারি সুপার ডা: সুরজিৎ সেন বলেন, ঘটনা সামনে আসার পরে মেডিসিন বিভাগের সেই সময় দায়িত্বে থাকা দুই নার্সিং ছাড়াও নিরাপত্তারক্ষী, ওয়ার্ড বয় সহ ৬ জনকে শো-কজ করা হয়েছে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের পর পরিবারের হাতে মৃতদেহ তুলে দেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *