আমাদের ভারত, দক্ষিণ ২৪ পরগণা, ১৫ জুলাই: বুধবার ভোরে বঙ্গোপসাগরের রক্তেশ্বরীর চরায় ধাক্কা খেয়ে এফবি হৈমবতী নামে একটি ট্রলার জলমগ্ন হয়। ট্রলারে থাকা ১২ জন মৎস্যজীবীর মধ্যে ২ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও বাকি ১০ জন মৎস্যজীবী নিখোঁজ ছিলেন। তবে বুধবার রাতেই ট্রলারটিকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয় নামখানায়। সেখানে রাতে ট্রলারের মধ্যে থেকে জল বের করা হয় বৃহস্পতিবার সকালে। সেখান থেকেই নটি দেহ উদ্ধার হয়। বাকি অনাদি সাসমলের দেহ উদ্ধার হয় এদিন সন্ধ্যায়, রক্তেশ্বরী চরের কাছ থেকে।
গত কয়েক বছরে বার বার বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছেন বহু মৎস্যজীবী। মৎস্যজীবী সংগঠনের হিসেব অনুযায়ী বিগত পাঁচ বছরে প্রায় ১২৫ জন মৎস্যজীবী প্রাণ হারিয়েছেন সমুদ্রে ট্রলার ডুবির ঘটনায়। দিনের পর দিন সমুদ্রে চরা পড়ে যাওয়ার কারণেই দুর্ঘটনা বাড়ছে বলে দাবি মৎস্য দফতর থেকে শুরু করে মৎস্যজীবী সংগঠনগুলির। এই দুর্ঘটনার হাত থেকে বাঁচতে ট্রলার চলাচলের জন্য সরকারি উদ্যোগে নির্দিষ্ট চ্যানেল চিহ্নিতকরণের দাবি তুলেছেন মৎস্যজীবীরা। পাশাপাশি আরও সতর্ক হয়ে ট্রলার চালানোর জন্য মৎস্যজীবীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের তরফ থেকে।
বুধবার ভোরে বকখালি থেকে প্রায় ২০ নটিক্যাল মাইল দূরে বঙ্গোপসাগরের রক্তেশ্বরী চরায় ধাক্কা খেয়ে এফবি হৈমবতী নামের একটি ট্রলার জলমগ্ন হয়। সেই ট্রলারে থাকা ১২ জন মৎস্যজীবীর মধ্যে দুজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও বাকি ১০ জন মৎস্যজীবী নিখোঁজ ছিলেন। দুর্ঘটনার পর আশপাশে থাকা ট্রলারগুলি প্রাথমিকভাবে উদ্ধার কাজে হাত লাগায়। পরে ফ্রেজারগঞ্জ কোস্টাল থানা ও উপকূলরক্ষী বাহিনীর কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজে হাত লাগায়।
অন্যদিকে এদিন দুপুরে রাজ্যের মৎস্য দফতরের মন্ত্রী অখিল গিরি, সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী বঙ্কিম হাজরা, দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক পি উল্গানাথন, জেলা সভাধিপতি সামিমা শেখ সহ প্রশাসনের আধিকারিকরা আসেন কাকদ্বীপে। সেখানে মহকুমাশাসকের দফতরে জরুরি বৈঠক করেন। এরপর মৃতদের বাড়ি দশ মাইল এলাকায় গিয়ে তাঁদের পরিবার পিছু দু’লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণের চেক তুলে দেন।

