আমাদের ভারত, কোচবিহার, ১১ আগস্ট: দিনহাটার গীতালদহ ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান বিথীকা বর্মনের স্বামী প্রদীপ বর্মন ও তাদের ১২ বছরের সন্তান চন্দ্রশেখর বর্মনের রেল লাইনের ধার থেকে মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য। আজ সকালে গীতালদহ এলাকায় রেললাইনের ধারে দু’জনের মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যার ঘটনা বলে মনে হচ্ছে।

যদিও এই ঘটনার পিছনে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে এসেছে। দিনহাটা দু’নম্বর ব্লক সাধারণ সম্পাদক আবু আল আজাদ অভিযোগ করেছেন, তৃণমূলের জেলা পরিষদ সদস্য নুর আলম হোসেন টাকার জন্য চাপ দিচ্ছিল প্রদীপ বর্মনকে। সম্প্রতি নুর আলম হোসেনের নেতৃত্বে গীতালদহ ২ গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান বিথিকা
বর্মণকে অপসারণ করে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য। এরপর থেকেই প্রচন্ডভাবে মানসিক চাপে ছিলেন প্রদীপ বর্মন।
অভিযোগ, বার বার হুমকি আসছিল নুর আলম হোসেনের পক্ষ থেকে। এর ফলে সে আত্মহত্যা করেছে।
যদিও এ বিষয়ে নুর আলম হোসেন কোনও মন্তব্য করতে চাননি, তবে নুর আলম হোসেনের পাশে দাঁড়িয়েছেন সিতাইয়ের তৃণমূল বিধায়ক জগদীশ বর্মা বাসুনিয়া। তাঁর দাবি, প্রদীপ বর্মন ঠিকাদারের কাছ থেকে বেশ কিছু টাকা ধার নিয়েছিল সেই টাকা শোধ করতে পারছিলেন না, ঠিকাদারদের ক্রমাগত চাপে মানসিক অবসাদ থেকেই এই আত্মহত্যা। তবে এই ঘটনার পেছনে নুর আলম হোসেন বা রাজনীতির কোনও কারণ নেই বলে তিনি দাবি করেছেন। তাঁর আরও দাবি, সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থে এই অভিযোগ করছেন কোনও কোনও নেতা।

আজ সকালে ঘটনার পর গীতালদহে যান তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি পার্থপ্রতিম রায় ও দিনহাটার প্রাক্তন বিধায়ক উদয়ন গুহ। মৃত তৃণমূল নেতার পরিবারকে সান্ত্বনা দেওয়ার পাশাপাশি পার্থ প্রতিম রায় বলেন, পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে পাশাপাশি আত্মহত্যার পেছনে যদি দলের কেউ জড়িত থাকে তবে দল আলাদাভাবে তদন্ত করবে। সম্প্রতিকালে দিনহাটা ২ ব্লকের তৃণমূল সভাপতি প্রসন্ন দেব শর্মা এবং সিতাইয়ের বিধায়ক জগদীশ বর্মা বাসুনিয়ার মধ্যে দ্বন্দ্ব বার বার প্রকাশ্য এসেছে। বিধানসভা ভোটের আগে থেকে এই দুই নেতার দ্বন্দ্বে উত্তপ্ত হয়েছে সিতাই। তৃণমূল নেতার এই মৃত্যুর ঘটনায় সেই দ্বন্দ্ব আবারও প্রকাশ্যে এল।

