রাজেন রায়, কলকাতা, ২৮ অক্টোবর: উত্তরাখণ্ডে ট্রেকিংয়ে গিয়ে দুর্যোগে প্রাণ হারিয়েছেন অনেকেই। এর মধ্যে পাঁচ বাঙালি পর্বতারোহীর দেহ ফিরল বাংলায়। রাজ্য সরকারের তত্ত্বাবধানে বৃহস্পতিবার কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছয় ওই পাঁচ অভিযাত্রীর দেহ। তারপর দেহগুলি তুলে দেওয়া হয় পরিবারের হাতে। সেই সময় বিমানবন্দরে হাজির ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী সুজিত বসু, উজ্জ্বল বিশ্বাস এবং বিধায়ক পুলক রায়।
এদিন যাঁদের কফিনবন্দি দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হল, তাঁরা হলেন হাওড়ার বাগনানের বাসিন্দা চন্দ্রশেখর দাস, সরিৎ শেখর দাস, সাগর দে এবং ঠাকুরপুকুরের সাধন বসাক ও রানাঘাটের প্রীতম রায়।
প্রসঙ্গত, উত্তরাখণ্ডে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর এনডিআরএফের একটি দল অভিযানে নামে। প্রায় ৪ হাজার ৫ মিটার উচ্চতায় মৃতদেহগুলি খুঁজে পায় তারা। ইতিমধ্যেই উত্তরাখণ্ডে ৬৪ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। উদ্ধার করা হয়েছে সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি মানুষকে।
১০ অক্টোবর, উত্তরাখণ্ডের উদ্দেশে রওনা হয় বাংলার অভিযাত্রী দলটি। ১১ অক্টোবর, তারা পৌঁছয় খারকিয়ায়। পরিবার সূত্রে খবর, খারকিয়া থেকে বেরিয়ে ট্রেকিংয়ের রুট ছিল বাগেশ্বর, জাটুলি, দেবীকুণ্ড, নাগকুণ্ড হয়ে কানাকাটা পাস। কিন্তু, প্রবল বৃষ্টি আর তুষারঝড়ে তাঁরা সুন্দরডুঙ্গা হিমবাহে আটকে যান।
অন্যদিকে, ২১ অক্টোবর রানিগঞ্জ-আসানসোল
-দুর্গাপুর থেকে ৩০ জন পর্যটকের একটি দল উত্তরাখণ্ডে বেড়াতে যায়। ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় পাঁচ পর্যটকের। মৃতদের মধ্যে ২ জন দুর্গাপুর, ২ জন রানিগঞ্জ, একজন আসানসোলের বাসিন্দা। আহত পর্যটকদের উত্তরাখণ্ডের বাগেশ্বর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এছাড়া উত্তরাখণ্ডে ট্রেকিংয়ে গিয়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে পড়ে প্রাণ হারান কালীঘাটের বাসিন্দা শুভায়ন দাস। ২৮ বছরের শুভায়ন পেশায় মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভ। দীর্ঘদিন ধরে ট্রেকিংয়ের নেশা ছিল তাঁর। একাধিকবার বিভিন্ন জায়গায় ট্রেকিংও করেছেন তিনি। এবারের লক্ষ্য ছিল উত্তরাখণ্ড। আবহাওয়া ভালো থাকায় অভিযাত্রী দলের সঙ্গে রওনা দিয়েছিলেন তিনি।

