“পুলিশ লেলিয়ে যোগ্য শিক্ষক পদপ্রার্থীদের অবরোধ তুলে দেওয়া হল,“ অভিযোগ চিকিৎসকের

আমাদের ভারত, ২১ অক্টোবর: শিক্ষক পদপ্রার্থীদের অবরোধ তুলে দেওয়ার কড়া সমালোচনা করলেন পদ্মশ্রী স্বীকৃতিপ্রাপ্ত চিকিৎসক তথা প্রবীন সমাজসেবী অরুণোদয় মণ্ডল।

শুক্রবার তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “কয়েকদিন আগেই একটি পোস্টে মন্তব্য করেছিলাম – ‘মমতাকে এনেছে সিপিআইএম আর সিঙ্গুর থেকে টাটাকে তাড়িয়েছে মমতা।’ সিঙ্গুর আন্দোলনে ২৮ দিন হাইওয়ে অবরোধ করে ম্যারাপ বেঁধে দুপুরে চকলেট ও রাত্রে চিকেন স্যান্ডউইচ খেয়ে অনশন করেছিলেন আজকের মুখ্যমন্ত্রী। সেদিন যদি মাননীয় বুদ্ধদেববাবুর জায়গায় মাননীয় জ্যোতি বসু মুখ্যমন্ত্রী থাকতেন তাহলে যেভাবে ১৪৪ ধারা প্রয়োগ করে মধ্যরাতে পুলিশ লেলিয়ে যোগ্য শিক্ষক পদপ্রার্থীদের অবরোধ তুলে দিয়েছে বর্তমান শাসক, সেদিন উচিত ছিল এমনই ভাবেই ১৪৪ ধারার অপপ্রয়োগ করে মধ্যরাতে পুলিশ দিয়ে অবস্থান অবরোধ তুলে দেওয়া। তাহলে আজকের মমতা ব্যানার্জি এতটা প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠত না।

কিন্তু সেদিন বুদ্ধদেববাবু জ্যোতি বসুর পদাঙ্ক অনুসরণ করে এতটা কঠোর হতে পারেলে ইতিহাসের পাতায় “সিঙ্গুর আন্দোলনের” মিথ্যা ইতিহাস রচিত হতো না বা মমতা ব্যানার্জি ক্ষমতায় আসতে পারতেন না। দীর্ঘ ৩৪ বছরের বাম শাসনে গ্রামেগঞ্জে সেদিন যে সন্ত্রাস দেখেছি, বাম শাসনে একের পর এক শিল্পের ঝাঁপ পড়তে দেখেছি, মাতৃভাষা মাতৃদুগ্ধ সম বলে ইংরেজি ভাষাকে বিদায় জানাতে দেখেছি, সেই বাম শাসনের শেষ পর্যায়ে বুদ্ধদেববাবু ও নিরুপম সেন উপলব্ধি করেছিলেন -“কৃষি আমাদের ভিত্তি, শিল্প আমাদের ভবিষ্যৎ”। মধ্য মেধার ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে টাটার মত শিল্পগোষ্ঠীকে সিঙ্গুরের ন্যানো গাড়ির কারখানা তৈরি করে পশ্চিমবঙ্গের শিল্প উন্নয়নের যে মাইল ফলক স্থাপন করেছিলেন, আজ টাটার মত শিল্পপতির হাত ধরে অন্যান্য অনুসারী শিল্পপতিরা যেভাবে শিল্প স্থাপনের উদ্যোগী হয়েছিলেন – আজ হয়তো এই সমস্ত শিক্ষিত মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের রাস্তায় বসে অবস্থান ধর্মঘট বা আমরণ অনশন করতে হতো না।

হয়তো সেদিন বামফ্রন্টে জমি অধিগ্রহণের পদ্ধতিগত ত্রুটি ছিল। কিন্তু তাই বলে যে কারখানা থেকে প্রডাকশন শুরু শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা, যে সময় বর্তমান শাসকের হঠকারী আন্দোলন ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে মুদ্রিত থাকবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কখনো তাদের ক্ষমা করবে না।

ঠিক যেভাবে মধ্যযুগীয় বর্বরতার মাধ্যমে শিক্ষিত যোগ্য প্রার্থীদের অবস্থান আন্দোলনকে ভেঙে দেওয়ার জন্য ১৪৪ ধারা প্রয়োগ করে হাইকোর্টের নির্দেশিকাকে অমান্য করে মধ্যরাত্রে পুলিশের সাহায্যে যে অপকর্ম করেছেন তার জন্য তীব্র ধিক্কার জানাই। সেদিনের সিঙ্গুর আন্দোলন ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই পাওয়ার মত ঐতিহাসিক গুরুত্ব আছে কিনা জানি না। তবে এই সিঙ্গুর আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্টের অপশাসনের অবসান ঘটিয়ে মা মাটি মানুষের সরকারের কু – শাসন প্রতিষ্ঠিত হলো – এটা ঐতিহাসিক সত্য।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *