সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ৩০ অক্টোবর: শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি এবং কয়লা, বালি, পাথর ও গরু পাচার সহ নানা দুর্নীতিতে কোনঠাসা তৃণমূল দলের ভাবমূর্তি ফেরাতে এবং কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে শারদীয়া উৎসবের পর থেকে তৃণমূল ও তার শাখা সংগঠনগুলি নানা কর্মসূচি নিলেও গোষ্ঠী কোন্দল পিছু ছাড়ছে না। শনিবার বিকেলে বাঁকুড়ার বেলিয়াতোড়ে তৃণমূল কিষাণ ও খেতমজুর সেলের পক্ষ থেকে একটি মহামিছিল ও সভার আয়োজন করা হয়েছিল। এই কর্মসূচিতে ডাক না পেয়ে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বড়জোড়ার ব্লক সভাপতি কালিদাস মুখার্জি।গতকাল অনুষ্ঠিত এই সভায় উপস্থিত ছিলেন দলের নেতা পূর্ণেন্দু বসু।

সভায় ডাক না পেয়ে বড়জোড়ার ব্লক তৃণমূল সভাপতি কালীদাস মুখার্জি বলেন, কোনো শাখা সংগঠন দলের ব্লক সভাপতিকে না জানিয়ে এরকম কর্মসূচি নিতে পারেন না। তিনি বলেন, আমার বাড়ি থেকে কয়েকশো মিটার দূরে জনসভা হচ্ছে এবং বাড়ির পাশ দিয়ে মহামিছিল যাচ্ছে অথচ দলের ব্লক সভাপতি হয়ে আমি তা জানি না। এই মহামিছিলের ডাক দিয়েছিলেন কিষাণ ও খেতমজুর সেলের বড়জোড়া ব্লক সভাপতি অশোক ব্যনার্জি। তিনি এব্যাপারে বলেন, আমি জেলা কমিটির নির্দেশে এই কর্মসূচি নিয়েছি। দলের ব্লক সভাপতিকে আমন্ত্রণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে জেলা কমিটি বলতে পারবেন। পূর্ণেন্দু বসু ছাড়াও এই জনসভায় উপস্থিত ছিলেন বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি তথা বড়জোড়ার বিধায়ক অলক মুখার্জি ও প্রাক্তন বিধায়ক আশুতোষ মুখার্জি।
অলক মুখার্জি বলেন, অসম্ভব ভালো একটি কর্মসূচি হয়েছে। এদিন এই মঞ্চে দলের প্রবীণ নেতা কর্মীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। নবী দিবস এবং বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময় হয়েছে সকলের সাথে। তাছাড়াও বড়জোড়ার ৮ হাজার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত যোগদান পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে বিরোধীদের কুৎসার জবাব দিয়েছে। গোষ্ঠী কোন্দল প্রসঙ্গে তিনি পরিষ্কার ভাষায় বলেন, হয়তো সমন্বয়ের অভাবে ব্লক সভাপতি জানতে পারেননি। তৃণমূলের সবাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী। এখানে আলাদা করে কেউ কারো অনুগামী নয়।

এ নিয়ে বড়জোড়ার সিপিআইএম নেতা সুজয় চৌধুরী কটাক্ষের সুরে বলেন, তৃণমূলের কত যে গোষ্ঠী আছে তা তারা নিজেরাই বলতে পারবেন না। সবাই করে খাওয়ার জন্য নেতা সেজে বসে আছেন। এখন রাজ্যের শিক্ষার দুর্নীতি ঢাকতে কত কৌশলই না করছে তৃণমূলের নেতারা।
অন্যদিকে বিজেপির বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলা যুব মোর্চার সাধারণ সম্পাদক সোমনাথ কর বলেন, রাজ্যে যেমন মমতা গোষ্ঠী ও অভিষেক গোষ্ঠী আড়াআড়ি বিভক্ত, বড়জোড়াতেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তৃণমূলের সবাই ধান্দাবাজ বলে তিনি মন্তব্য করেন।

