সাসপেন্ড ও শোকজের হুড়োহুড়িতেও বন্ধ হয়নি সারের কালোবাজারি, নাজেহাল কৃষকরা, উদ্বিগ্ন দক্ষিণ দিনাজপুরের কৃষি দপ্তর

পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ৩ নভেম্বর: সাসপেন্ড ও শোকজ করেও দক্ষিণ দিনাজপুরে বন্ধ হয়নি সারের কালোবাজারি। নাজেহাল কৃষকরা। উদ্বিগ্ন প্রশাসন। বৃহস্পতিবার হিলিতে কালোবাজারির অভিযোগে ফের এক সার ব্যবসায়ীকে শোকজ করতেই তুমুল হইচই পরিস্থিতি তৈরি হয় সীমান্ত শহরে। যদিও এই ঘটনাকে তেমন বাড়তি গুরুত্ব দিতে চায়নি জেলা কৃষি দপ্তর। এদিকে জমির ফসল ঘরে উঠতেই ফের জেলায় অতি সক্রিয় হয়ে উঠেছে সারের কালোবাজারিদের দৌরাত্ম্য বলে অভিযোগ তুলেছে কৃষকেরা। যা নিয়ে প্রশাসনিক উদাসীনতাকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন তারা। তাদের অভিযোগ, সার বিক্রেতাদের কালোবাজারি নিয়ে প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি।

চাষের মরশুম শুরু হতেই দক্ষিণ দিনাজপুরে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে শুরু করেছে সারের কালোবাজারি। যা নিয়ে প্রশাসনকে একপ্রকার বুড়ো আঙুল দেখিয়েই চলছে দেদার কারবার। সরকারের বেধে দেওয়া নির্ধারিত দামের থেকে প্রতি প্যাকেটে প্রায় ৫০০ টাকা করে বেশি আদায় করছে অসাধু কারবারীরা বলে অভিযোগ। জেলাজুড়ে সর্বত্র এই অব্যবস্থা চললেও তেমন কোনো ভ্রুক্ষেপই নেই প্রশাসনের বলে অভিযোগ তুলেছে কৃষকরা। যদিও কৃষকদের তোলা এই অভিযোগ মানতে নারাজ জেলা কৃষি দপ্তর। পরিসংখ্যান তুলে ধরে তাদের দাবি, দক্ষিণ দিনাজপুরে কালোবাজারির অভিযোগে ইতিমধ্যে ১১৫ জন সার ব্যবসায়ীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। শোকজ করা হয়েছে ২৫০ জন সার ব্যবসায়ীকে। শুধু তাই নয়, চাষের মরশুম শুরু হতেই বিভিন্ন এলাকায় কালোবাজারির বিরুদ্ধে নানা অভিযানও শুরু হয়েছে ইতিমধ্যে। এদিন সেই হিসাবেই হিলির এক সার ব্যবসায়ীকে শোকজ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি দপ্তর।

বিপুল দাস ও ক্ষুদিরাম সরকার নামে দুই কৃষক বলেন, সারের কালোবাজারি কোথাও বন্ধ হয়নি। চাষের মরশুম শুরু হতেই তা লাগামহীন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে। বস্তা প্রতি তাদের পাঁচশো টাকা পর্যন্ত বেশি গুনতে হচ্ছে। যা নিয়ে প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি।

কৃষি দপ্তরের ডেপুটি ডিরেক্টর প্রণব কুমার মুখোপাধ্যায় বলেন, সারের কালোবাজারি রুখতে তারা বদ্ধপরিকর। এব্যাপারে নানা সচেতনতার পাশাপাশি কোনো অভিযোগ পেলেই সেসব সার ব্যবসায়ীদের শোকজ ও সাসপেন্ড করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *