৩৬ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি বাতিলের নির্দেশ, স্বাগত জানালো বিজেপি

আমাদের ভারত, ১২ মে: শুক্রবার রাজ্যের ৩৬ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। এঁরা সকলেই প্রশিক্ষণহীন। তবে বিচারপতির রায়, আগামী ৪ মাস চাকরিচ্যুতরা স্কুলে যেতে পারবেন। এই রায় প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে অভিযোগের সুরে বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, রাজ্যের আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যত অন্ধকারে ঠেলে দেওয়ার জন্য দায়ী মু্খ্যমন্ত্রী।

বিজেপির রাজ্য সভাপতি বলেন, “এই রাজ্য সরকার ও তৃণমূলের দুর্নীতির পর দুর্নীতি এমন জায়গায় পৌঁছে গেছে যে, পশ্চিমবঙ্গের আগামী প্রজন্মকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। গোটা রাজ্যজুড়ে ৩৬ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিল হয়ে গেছে। এখন স্কুলে স্কুলে শিক্ষক থাকবে না। তারা পার্শ্বশিক্ষকের মত চার মাস মাইনে পাবে। এর ফলে যে অরাজকতা সৃষ্টি হয়েছে তার জন্য দায়ী মুখ্যমন্ত্রী এবং তার দলবল। তিনি আরো দাবি করেন, এরপর সময় আসছে পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষা করার জন্য এখানে রাষ্ট্রপতি শাসন ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।

অন্যদিকে আদালতের এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে বিজেপি’র পশ্চিমবঙ্গের কেন্দ্রীয় সহ পর্যবেক্ষক অমিত মালব্য শুক্রবার টুইটারে লেখেন, “একটি অভূতপূর্ব পদক্ষেপে। কলকাতা হাইকোর্ট ৩৬,০০০ প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি বাতিল করার এবং আগামী তিন মাসের মধ্যে নতুন নিয়োগ অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছে। এই নিয়োগের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রীরা বিপুল পরিমাণ টাকা তুলেছিলেন। এই মাপে এমন ঘটনা আগে কখনও এ দেশে ঘটেনি। অনেক ছোট নিয়োগ কেলেঙ্কারির জন্য মুখ্যমন্ত্রীরা জেলে গেছেন। আইনের নিরিখে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধরা পড়ার সময় এসেছে।”

বিজেপি মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে এত বড় দুর্নীতি কোথাও হয়নি। এরপর তৃণমূলের সরকার চালানোর অধিকার নেই। আমরা বার বার চাকরি বিক্রির অভিযোগ করেছিলাম। আজ আদালতের রায় বুঝিয়ে দিল, আমাদের অভিযোগ ঠিক ছিল। আজকের দিনটা বাংলার জন্য লজ্জার।”

এই মামলার অন্যতম আইনজীবী তথা বিজেপি নেতা তরুণজ্যোতি তিওয়ারি বলেন, “প্রাথমিকের নিয়োগে কী বিপুল পরিমাণ দুর্নীতি হয়েছিল, হাইকোর্টের রায়ই তার প্রমাণ।” বিরোধী দলগুলির বক্তব্য, বার বার অনুরোধ করা সত্ত্বেও রাজ্য সরকারের তরফে ওয়েবসাইটে যোগ্য চাকরি প্রার্থীদের নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *