আমাদের ভারত, ১৬ আগস্ট: ফালাকাটাতে বিজেপি নেতার বাড়িতে তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ উঠেছে রাজ্যের শাসক দলের বিরুদ্ধে। বাগনানেও এক বিজেপি নেতার উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। তাতেও তৃণমূলকেই দায়ী করেছে বিজেপি। ভোট পরবর্তী হিংসার পরিস্থিতি ফের রাজ্যে ফিরতে পারে সেই আশঙ্কা প্রকাশ করে রাজভবনে রাজ্যপাল লা গণেশনের সঙ্গে দেখা করলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। রাজ্যের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। রাজভবন থেকে বেরিয়ে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করেন সুকান্ত মজুমদার। তাঁর দাবি, তৃণমূল পুলিশকে সামনে রেখে হিংসা চালাচ্ছে, কারণ গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আদর্শের লড়াইয়ে তারা পেরে উঠবে না।
মঙ্গলবার সকালে একাধিক বিজেপি নেতাকে সঙ্গে নিয়ে রাজভবনে যান সুকান্ত মজুমদার। তার সঙ্গে ছিলেন বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল। রাজভবন থেকে ফিরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সুকান্ত মজুমদার বলেন, “আশঙ্কা নিয়ে রাজ্যপালের কাছে এসেছিলাম। ভোট-পরবর্তী হিংসার পরিস্থিতি ফের তৈরি হবার পরিস্থিতি হয়েছে। যেভাবে একের পর এক মন্ত্রী তৃণমূলের নেতারা চুরি, গরু পাচার এবং টাকা রাখার দায়ে ধরা পড়ছে। আগামী দিনে হয়তো আরও বাড়বে সেটা। বর্তমানে গণতান্ত্রিকভাবে তৃণমূল সম্পূর্ণ ব্যাকফুটে। বাংলার বাসে ট্রামে চোর চোর শব্দ শোনা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল একমাত্র হিংসাকে আশ্রয় করবে। গণতান্ত্রিকভাবে আদর্শের লড়াইয়ে পেরে উঠতে না পেরে পুলিশকে সামনে রেখে এই হিংসার কাজ করার চেষ্টা চালাচ্ছে তারা।”
তিনি আরও বলেন, সৌগত রায়ের মতো তৃণমূলের বিদগ্ধ নেতাও হিংসায় উস্কানি দিয়েছেন। তিনি বিরোধীদের চামড়া গুটিয়ে পায়ে পড়ার মতো মন্তব্য করেছেন। একাধিক জায়গায় বিরোধীরা যারা গুড় বাতাসা বিতরণ করেছেন তাদের দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। প্রকাশ্যেই হিংসার কথা বলছেন তৃণমূলের নেতারা।
২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল নেতাদের মুখে খেলা হবে স্লোগানটি শোনা যায়। ভোটের পর ১৬ আগস্ট দিনটিকে “খেলা হবে দিবস” হিসেবে পালনের ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশের নির্বাচনী স্লোগান খেলা হবে বাংলায় এনেছিলেন অনুব্রত। তা নিয়ে সুকান্ত বলেন, “তৃণমূল খেলতে চায়। তাদের খেলার লোকের অভাব নেই। কারণ পশ্চিমবঙ্গের যত গুন্ডা মাস্তান রয়েছে। তারা সব তৃণমূলের ছত্রছায়ায় রয়েছে। সবথেকে বড় গুন্ডা হচ্ছে পুলিশ। খেলতে আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু সমানে সমানে খেলা হওয়া উচিত। সমান মাঠ তৈরি করে দিন। বিজেপি ভালো খেলে দেবে। আমাদের বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দেওয়া হচ্ছে। পুলিশকে সরিয়ে দিন দেখি কত বড় খেলোয়ার তৃণমূল।”

